পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম যুদ্ধাবস্থা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য জাহাজ মালিক ও কর্মী নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।
চলতি সপ্তাহে ওই অঞ্চলের নৌপথে সংঘটিত পৃথক দুটি হামলায় দুজন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারানোর পর দেশটির প্রশাসন এই জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং বা নৌপরিবহন অধিদপ্তর দেশের সমস্ত জাহাজ মালিক, নৌ ব্যবস্থাপক এবং নাবিক সরবরাহকারী রিক্রুটমেন্ট কোম্পানিগুলোর প্রতি এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ‘পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে সমুদ্রযাত্রা করা জাহাজগুলোতে ভারতীয় নাবিকদের মোতায়েন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে’। পারস্য উপসাগরের বর্তমান মারাত্মক আইন-শৃঙ্খলা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর তাদের আনুষ্ঠানিক আদেশে আরও স্পষ্ট করেছে যে এই অঞ্চলের জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোতে কর্মরত ভারতীয় সমুদ্রকর্মীদের জীবন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে এমন বর্ধিত ও সুনির্দিষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। নাবিকদের জানমালের সুরক্ষাকেই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতের নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের সামুদ্রিক এলাকায় বিভিন্ন সামরিক হামলায় অন্তত চৌদ্দজন নাবিক নিহত হয়েছেন।
এই নিহতদের মধ্যে অন্যান্য দেশের কর্মীদের পাশাপাশি ভারতের আরও তিনজন ক্রু সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা গত ৯ জুন ওমান উপকূলে ‘সেত্তেবেলো’ নামক একটি বিশেষ তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর চালানো বিমান হামলায় নির্মমভাবে প্রাণ হারান।
সূত্র: আল জাজিরা

