সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরার পারমিট বন্ধ করায় বিপাকে জেলেরা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৪

সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পাশ বা পারমিট বন্ধ থাকায় জেলে পরিবারগুলোয় দুর্দশা নেমে এসেছে। জুলাই-আগস্ট মাসে বন বিভাগ মাছের পারমিট বন্ধ ঘোষণা করায় সুন্দরবন থেকে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে পারছেন না জেলেরা। ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন বনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে।

বন বিভাগ সূত্র জানা গেছে, ৬ হাজার ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য। নিষিদ্ধ বন এলাকায় প্রবেশে প্রশাসনের রয়েছে ব্যাপক নজরদারি। বনের ৪৮ শতাংশ জায়গার নদী ও খাল থেকে জেলেরা সাধারণত মাছ, মধু ও কাঁকড়া আহরণ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে শত শত অসাধু জেলে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ফলে মত্স্য সম্পদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনের মত্স্য সম্পদ রক্ষা করতে সরকার ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধসহ ২৫ ফুট চওড়ার ৪৫০টি খালে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বর্তমানে মাছ ও কাঁকড়ার পারমিট বন্ধ থাকায় বৈধভাবে জেলেরা বনে ঢুকতে পারছেন না। ফলে খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া; সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ; বাগেটহাটের মংলা, জয়মনি, শরণখোলাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলে পরিবারগুলো হতাশায় ভুগছে। তবে জেলেদের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সরকার এরই মধ্যে জেলে কার্ড চালু করে কার্ডপ্রতি মাসিক ৪৭ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এ চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের মত্স্যজীবী আ. জলিল জানান, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তারা গোনে (এক পক্ষ) ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এতে মাসে দুটি গোনে তারা ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। কিন্তু জেলে কার্ডে মাত্র ১ হাজার টাকারও কম মূল্যের চাল পাওয়া যাচ্ছে। এ চালে তাদের সংসার চলছে না। তবে মত্স্য বিভাগ থেকে চাল দেওয়া হলেও বন বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জেলেরা জানান।

পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, বিষ প্রয়োগ রুখতে এবং মত্স্য সম্পদ রক্ষায় সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়ার পাস বন্ধ করা হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে পারমিট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।