পাকিস্তান শাসিত কাশ্মিরে বিক্ষোভে হত্যা নিয়ে তদন্ত চায় জাতিসংঘ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০২

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সব বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এই মাসের শেষে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রাক্কালে গত মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও আন্দোলনকর্মীদের একটি সমন্বিত সংগঠন জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করছে। যদিও আন্দোলনটি প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং পরিষেবা শুল্কের প্রতিবাদে গঠিত হয়েছিল, বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত বিধানসভার আসন নিয়ে একটি আইনি বিরোধ। জেএএসি এই আসনগুলো বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, এই আসনগুলো অনাবাসীদের স্থানীয় রাজনৈতিক ফলাফল পরিবর্তন করার সুযোগ করে দেয়। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে জেএএসিকে ‘একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বৈশ্বিক সংস্থাটি সতর্ক করেছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে এবং ব্যাপক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহার করা সংগঠন গঠনের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

৪৫ পাকিস্তান সেনা নিহতের দাবি

পাকিস্তানে একটি সেনা বহরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির ৪৫ জন সেনার প্রাণ গেছে। বেলুচিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গত এক মাসে এ নিয়ে চতুর্থ বারের মতো সেনা বহরে হামলার ঘটনা ঘটল। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) বিবৃতি অনুযায়ী, অশান্ত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বহরের ওপর হামলায় ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

বিএলএর দাবি, তাদের বিশেষ ইউনিট ‘ফতেহ স্কোয়াড’ ও ‘মাজিদ ব্রিগেড’ যৌথভাবে এই হামলা চালায়। মুস্তং জেলার খডকোচা এলাকায় সেনা সদস্যদেরকে বহনকারী বাসের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রথমে একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি সোজা সেনা কনভয়ে গিয়ে ধাক্কা মারে। তাতেই ছোট গাড়ির ধাক্কায় বিস্ফোরণ ঘটে ঐ গাড়িতে। এরপরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার বিকালে সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নু জেলা ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৪ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্র্রতি বান্নুতে পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং আত্মঘাতী বোমা হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনাগুলোতে ভারতের মদদপুষ্ট ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। —আলজাজিরাডন ও ইন্ডিয়া টাইমস

ইত্তেফাক/এএম