গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে রিম্পা (২১) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দি দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছেন। মাত্র ৮ দিন আগে কারাগারে আসা এই বন্দির এমন দুঃসাহসিক পলায়নকে ঘিরে কারাগারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার দায়ে ইতিমধ্যে ৩ জন মেট্রন ও ৪ জন নারী কারারক্ষীসহ মোট ৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৯ জুলাই আদালত থেকে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। নিয়মানুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের সেলে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ (লকআপ) করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এই সুযোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিম্পা কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে উঁচু সীমানা প্রাচীর টপকে কৌশলে পালিয়ে যান।
পলায়ন ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ পুরো কারাগারে তল্লাশি চালালেও রিম্পার কোনো সন্ধান পায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।
দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় বরখাস্ত বরখাস্ত হওয়া সাত জন হলেন- মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
এআইজি প্রিজন্স জান্নাতুল ফরহাদ জানান, এত নিরাপত্তার মধ্য থেকে একজন বন্দি কীভাবে পালালো তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তবে তদন্তকারী দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লু’ পেয়েছে। ঘটনার পর কোনাবাড়ী এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রিম্পা তার বাড়িতে কথা বলেছিলেন। সেই সূত্র ধরে পুলিশ ও বিশেষ টিম অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ি থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার বাদী হয়ে মহিলা কারাগার থেকে এক বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পালিয়ে যাওয়া বন্দিকে গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

