বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৬

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে মহান এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে গতকাল পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে।

জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। ১৫ আগস্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে এ সময় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে পৃথক শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সে সময়কার বাসভবন, যেটি পরবর্তী সময়ে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে, তা ঘুরে দেখেন। তারা সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। ৪৪ বছর আগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই বাড়িটিতেই ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ধানমন্ডি থেকে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তার মা এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের কবরে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং কবরে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন। তিনি এ সময় ফাতেহা পাঠ করেন এবং ১৫ আগস্টের শহিদদের রুহের শান্তি কামনায় দোয়া করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাদের তিন সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং জামালের নবপরিণীতা স্ত্রীসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে কিছু বিপথগামী ক্ষমতালিপ্সু সেনা সদস্যের বুলেটের নির্মম শিকার হয়ে প্রাণ ত্যাগ করেন।