‘ভূতের বাড়ি’তে এক রাত কাটালেই মিলবে ৬৬ হাজার টাকা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৬

জাপানের আবাসন খাতে ‘জিকো বুক্কেন’ বা অতীতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটা বাড়িগুলোর ভয় দূর করতে এক ব্যতিক্রমী পেশার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই কাজে সাহসী ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিয়ে তথাকথিত ‘ভৌতিক’ বাড়িগুলোতে এক রাত থাকার জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে। মাত্র এক রাত অবস্থানের বিনিময়ে কর্মীরা পাচ্ছেন ৮৮ হাজার ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৬ হাজার টাকার সমান। 

শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বাড়ির মালিকেরা আশা করেন, এভাবে প্রমাণ করা যাবে যে বাড়িগুলোতে কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে না। এতে সম্ভাব্য ক্রেতা ও ভাড়াটিয়াদের ভয় কমবে এবং দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা এসব বাড়ি বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া সহজ হবে।

জাপানে এ ধরনের বাড়িকে বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’। সাধারণত যেসব বাড়িতে অতীতে হত্যা, আত্মহত্যা, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বা একাকী মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো এই শ্রেণিতে পড়ে।

জাপানের আইন অনুযায়ী, আবাসন এজেন্টদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটেদের কাছে বাড়ির অতীত ইতিহাস প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। ফলে অস্বাভাবিক বা অতিপ্রাকৃতিক কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে ভয়ে অনেকেই এসব বাড়িতে পা রাখতে চান না। চমৎকার চমৎকার সব বাড়ি মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে।

বাড়ির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীরা এই লোকসান কাটাতে অভিনব এই উপায় খুঁজে বের করেছেন। তাঁরা সাহসী ব্যক্তিদের ৮৮ হাজার ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৬ হাজার টাকার বেশি) দিয়ে একেকটি রাত কাটাতে ভাড়া করেন।

অর্থের বিনিময়ে যারা রাত কাটাতে আসবেন, তাদের কিন্তু ঘুমিয়ে রাত কাটানোর সুযোগ নেই, বরং সারারাত ক্যামেরা ও বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে তাদের বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রাত শেষে যদি কোনো অস্বাভাবিক কিছু না ঘটে, তবে তাঁরা বাড়িটিকে ‘ভূতমুক্ত’ বলে একটি প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট দেবেন।

জাপানে এই সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ দেশটিতে খালি বাড়ির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মহার কমে যাওয়া, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শহরমুখী জনসংখ্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাখ লাখ বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন পেশার মূল লক্ষ্য মানুষের মনে থাকা ভৌতিক বাড়ি নিয়ে ভয় দূর করা। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়িগুলো আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং মালিকদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়া সহজ করাও এর উদ্দেশ্য। আবাসন ব্যবসা ও তথাকথিত ভূত অনুসন্ধানের ধারণাকে একত্র করে এই পেশা এখন জাপানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত বিশেষায়িত পেশাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

 

ইত্তেফাক/এনটিএম