অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৯

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই ১৭ বছর বয়সী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করেন এবং রাত ৯টার দিকে ভর্তি রেখে সাড়ে ১০টার দিকে অস্ত্রোপচার করেন।

পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। রাত ৩টার দিকে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণেই তাকে মেয়েকে হারাতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসএ