ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে ঢাকায় এসে মারা গেলেন স্বাস্থ্য সহকারী তপন কুমার মণ্ডল (৪০)। তিনি মাদারীপুর জেলা সদরের বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানদের কাছে বিদায় নিয়ে এসেছিলেন এবং দ্রুত ফেরারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সেবা দিতে এসে সেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন স্ত্রী-সন্তানের কাছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
রাজধানী ঢাকায় জুলাই থেকে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হারে দেখা দেয়। ঐ সময় ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ বেশ কয়েক জন ডেঙ্গু জ্বরে মারা যায়। রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের চিকিত্সা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৩০ জুলাই এক আদেশে ঢাকার বাইরের জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োজিত ১২৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে ঢাকায় সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়। তাদের ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ভাগ করে এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যস্ত করা হয়।
তপন কুমার মণ্ডলকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামপুর-কদমতলি এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়। এ এলাকায় কর্মরত অবস্থায় গত ১০ আগস্ট তিনি তীব্র জ্বর ও ব্যথা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। চিকিত্সক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত করেন এবং তাকে গ্রামে গিয়ে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। মাদারীপুর জেলা সদরের টিআরপুর ইউনিয়নে তার বাড়ি। সেখানে যাওয়ার একদিন পর তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তার প্লাটিলেট কমে যায়। মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। তপনের অবস্থার আরো অবনতি হলে বুধবার তাকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলে গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় তার মৃত্যু হয়।
তপন কুমারের স্ত্রী ছাড়াও সাত বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়ে রয়েছে। স্বামীর লাশ জড়িয়ে স্ত্রী মুক্তা অধিকারীর আহাজারিতে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। ঐ সময় তার দুই সন্তান বাবার লাশের সামনে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাদছিল। শিশুপুত্র বলছিল, ‘আব্বু তুমি কথা বল, কথা বলছ না কেন।’ এই দৃশ্য দেখে হাসপাতালে আগত রোগী ও দর্শনার্থীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কিছুক্ষণের জন্য হাসপাতালের চিকিত্সা ব্যবস্থা থমকে যায়।
