ভারতে মেট্রোরেলে যাতায়াতের সময় হেডফোন বা ইয়ারফোন ছাড়া মোবাইলের স্পিকারে গান শোনা কিংবা ভিডিও দেখার অভ্যাস থাকলে এবার গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। নতুন এক নিয়মে এ ধরনের আচরণের জন্য জরিমানা ৫০০ রুপি থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ রুপি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকার সমান।
সম্প্রতি মেট্রোরেলওয়ে (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আইন, ২০০২ সংশোধন করে জন বিশ্বাস (সংশোধনী) আইন, ২০২৬-এর আওতায় এ বিধান কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম গত ১৯ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ভারতের বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই মেট্রোতে এ নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে বেঙ্গালুরু মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (বিএমআরসিএল) জানিয়েছে, আইনটি দেশের সব মেট্রো পরিষেবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সহযাত্রীদের অসুবিধা বা বিরক্তির কারণ হলে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার রুপি জরিমানা হবে। যেসব আচরণের জন্য এই জরিমানা করা হতে পারে, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে-
স্পিকার অন করে ভিডিও চালালে এবং ইয়ারফোন ছাড়া মোবাইলে লাউডস্পিকারে ভিডিও দেখলে, মেট্রোর ভেতরে জোরে চিৎকার করলে, অশালীন বা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করলে, মাতাল অবস্থায় যাতায়াত ও অশোভন আচরণ করলে, কোচের ভেতরে থুতু ফেললে কিংবা মেঝেতে বসলে, মেট্রোর কোনো সম্পত্তি নষ্ট করলে।
বেঙ্গালুরু মেট্রো কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার যাত্রীকে স্পিকারে গান বা ভিডিও চালানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। আগে ৫০০ রুপি জরিমানার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাত্রীদের শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হতো। ফলে এই প্রবণতা কমছিল না। তাই এবার জরিমানার পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুধু শব্দদূষণই নয়, মেট্রো চত্বরে অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী-মেট্রো এলাকায় অনুমতি ছাড়া পোস্টার, ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড লাগালে কিংবা বিক্ষোভ করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার রুপি জরিমানা হতে পারে, অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকা বা মেট্রো ট্র্যাকে (লাইন) ঢুকলে জরিমানা হতে পারে ৫ হাজার রুপি, ট্র্যাকে প্রবেশ করে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত করলে অন্যান্য আইন মিলিয়ে মোট জরিমানা ২৫ হাজার রুপি পর্যন্ত হতে পারে, ভুয়া টিকিট বা পাস ব্যবহার কিংবা সরকারি নোটিশ বিকৃত করলেও ২৫ হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম রাখা হয়েছে।

