মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বা প্রতিরক্ষা প্রধান নামে একটি নতুন সামরিক পদ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নতুন এই পদধারী ব্যক্তি সেনা, নৌ ও বিমান এই তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন।
দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে গতকাল বৃহস্পতিবার একথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের গর্ব। এর প্রতিটি শাখার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে আমি আজ এই লাল কেল্লা থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাতে চাই। ভারতে একজন সিডিএস বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ থাকবেন। তাতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও কার্যকর হয়ে উঠবে। তার দায়িত্ব হবে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাহিনীগুলোর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করা। যেমনটি হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে।
জানা গেছে, চার তারকা জেনারেল পদমর্যাদার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের দায়িত্ব পাবেন। তিন বাহিনীর বাজেট নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা থাকবে। এরকম একটি পদ সৃষ্টির জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন সেনা কর্মকর্তারা। ১৯৯৯ সালে কার্গিলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের পরে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি করা হয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনেও একজন ‘সিঙ্গল পয়েন্ট’ অফিসার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, যিনি সকল বাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
কাশ্মীরের গৌরব ফিরবে:ভাষণে মোদি আরো বলেন, ভারত শাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনবে। কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে তার সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুচ্ছেদ ৩৭০ কাশ্মীরে শুধু দুর্নীতিকেই অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারতের অভ্যন্তরে যারা অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের সমালোচনা করছে, তাদের সমালোচনা করে মোদি অভিযোগ করেন যে তারা ‘রাজনীতির খেলা’ খেলছেন। তবে তার কাছে রাজনীতির চেয়ে দেশের ভবিষ্যতই সবার আগে বলে মন্তব্য করেন।
