গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে হত্যাসহ চার জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় এক কৃষক খুন হয়েছেন। এক আনসার সদস্য মুখমণ্ডলের নিচে অস্ত্র ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর ট্রেনে কেটে এক নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া মারা গেছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদি।
স্থানীয়, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার সালতা গ্রামে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারুল (৩৮) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। মিনারুল ঐ গ্রামের মৃত সদর মোল্লার ছেলে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা খবর পান মিনারুলকে তার বাড়ির পাশের মাঠে কে বা কারা কুপিয়ে জখম করে ফেলে গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরো জানান, কৃষক মিনারুল এলাকায় নিরীহ মানুষ হিসেবেই পরিচিত। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। অন্যথায় পুলিশ বাদী মামলা হবে। আনসার সদস্যর আত্মহত্যা: যশোরে মকদম আলী (৫১) নামে এক আনসার সদস্য মুখমণ্ডলের নিচে অস্ত্র ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোরে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মকদম আলী টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার বিল আমুলি গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। তিনি বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী শেখ বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে আনসার সদস্য মকদম আলী আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মঈনুল হকও বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ট্রেনে কাটা পড়ে নারী নিহত: যশোরে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত রিজিয়া বেগম (৬৫) টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার সাতিহাটি গ্রামের হাজি তোফাজ্জেল হোসেনের স্ত্রী। নিহতের জামাই রস্তুম আলী জানান, সকালে যশোর রেল স্টেশনে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে তার শাশুড়ি পা পিছলে নিচে পড়ে যান। একই সময় ট্রেনও চলতে শুরু করে এবং রিজিয়া বেগমের দুই পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। দুই পা কেটে ও মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর জখম হন। দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কয়েদির মৃত্যু: যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মোহাম্মদ ইকবাল শেখ (৪২) নামে এক জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসপাতালে আনার সময় তার মৃত্যু হয়। ইকবাল শেখ বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক অমিয় দাস বলেন, হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার ইসিজি রিপোর্টে হার্টের সমস্যা দেখা গেছে।
