বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। 

সোমবার (২০ জুলাই) প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট তেলের দাম ২ দশমিক ০৯ ডলার বেড়ে ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ। 

গত সপ্তাহেও ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রেন্ট তেলের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনার কোনো ঘাটতি না থাকা এবং উভয় পক্ষের ক্ষতিকারক পাল্টাপাল্টি আক্রমণের কারণেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এই চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতেও সংঘাত কমেনি, যেখানে মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর টানা নবম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন মিত্র কুয়েত ও বাহরাইন নতুন করে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক গবেষণাপত্রে জানান যে ‘আমেরিকা ও ইরান ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুই পক্ষের জন্যই মারাত্মক প্রমাণিত হচ্ছে এবং এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না আসলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে’। অন্যদিকে বার্কলেসের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং জানান যে ‘বিশ্ববাজারে পাঁচ বছরের মধ্যে তেলের সর্বনিম্ন মজুদ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি বাজার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে এখনো বেশি উদাসীন রয়েছে’।

ইরানের ইসলামি রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে যে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্ররোচনায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের অনিরাপদ পথ ব্যবহার করায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে, যদিও রয়টার্স এটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। 

পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে ওমানের কুমজার উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ বা এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী গত রবিবার বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ যাতায়াত করেছে, যা আগের দিনের আটটি জাহাজের তুলনায় অর্ধেক।

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/টিএইচ