স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিষিদ্ধের প্রস্তাবে সায় নেই ইসির

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব গ্রহণ করছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দ্বৈত নাগরিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি, ঋণখেলাপির জামিনদার ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—আইন ও বিধিমালার সংশোধনী অনুমোদনের জন্য আলোচনা হবে। পরে সেগুলো সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে আচরণবিধিমালা সংশোধন ইসির নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেয় জামায়াতে ইসলামী।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার এখতিয়ার ইসির নেই। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন এবং প্রার্থীর দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

তিনি জানান, বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব কমিশন সভায় আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়াও সভায় অনুমোদন পেতে পারে।

চার শ্রেণির ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের প্রস্তাব
ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে সেই অযোগ্যতা আর থাকবে না।

এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব আনা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক ও ঋণখেলাপির জামিনদারদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে—এমন বিধান যুক্ত করার সুপারিশও করা হচ্ছে।

নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল দুই সদস্যের পরিবর্তে উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। সংস্থাটির মতে, এতে আপিল নিষ্পত্তিতে সময় ও আইনি জটিলতা কমবে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার, জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন