এবার যুক্তরাজ্যের ভিসা হারাচ্ছেন আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৮

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ড ব্যানার’ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন আর্জেন্টিনার তিন প্রিমিয়ার লিগ তারকা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, টটেনহ্যাম হটস্পারের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং চেলসির মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেসের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ভিসা বাতিলের দাবি উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন ফুটবলারের ওয়ার্ক ভিসা বাতিলের দাবি ওঠার পর বিষয়টির আইনগত দিক বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেমিফাইনালে জয় নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। এরপরই যুক্তরাজ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল অধ্যায়। সে কারণে ব্যানারটি যুক্তরাজ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা নাইল গার্ডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা যেসব আর্জেন্টাইন ফুটবলার এই ‘যুক্তরাজ্যবিরোধী’ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাদের ওয়ার্ক ভিসা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। তার মতে, রাজনৈতিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলও ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি তদন্তে ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংস্থাটির স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত বার্তা প্রদর্শন সংস্থার নিয়মবিরোধী হওয়ায় প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড ইস্যুতে ব্যানার প্রদর্শনের কারণে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করা আইনগতভাবে সহজ নয়। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্তের জন্য আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রয়োজন হবে। তা সত্ত্বেও নতুন মৌসুম শুরুর আগে এই বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাবের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস