সিরাজগঞ্জে বেড়েই চলেছে যমুনার পানি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। জেলার শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাট সেন্টার এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতভিটা, ঘরবাড়ি।

শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা বলেন, নদীভাঙনে আমি সর্বস্বান্ত হয়েছি। চরে আমার প্রায় ৬০ বিঘা জমি ছিল। এসব জমিতে ফসলের আবাদ করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে দিন কাটাতাম। কিন্তু সর্বনাশা যমুনা নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে । এখন আমি নিঃস্ব। ভাঙনের কারণে আমার মতো অনেক মানুষ আজ পথের ভিখারি।

কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকার আবু হানিফ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মাসে এই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে চরগিরিশ ফ্লাট সেন্টার, পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতভিটা, ঘরবাড়ি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত ১৩ জুলাই থেকে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় ৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময় কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টেও ৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ভাঙন রোধে বালির জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে ।

ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি
দাগনভূঁইয়া (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে দিশেহারা দাগনভূঁইয়ার পাঁচ শতাধিক পরিবার । নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় এই ভাঙন বলে জানান ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী। একমাত্র নদীর পাড় দিয়ে যাওয়া পাকা সড়কটি সম্পূর্ণ বিলীন নদীতে। শত শত ঘরবাড়ী বিলীন হয়েছে নদীতে । স্থানীয় একাধিক নদী পাড়ের বাসিন্দা জানান, আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি, কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না ।

দাগনভূঁইয়া উপজেলা প্রকোশলী মাসুম বিল্লাহ জানান, বিলীন হওয়ায় পাকা সড়কের জায়গা উদ্ধার করা হলে পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, আমরা নদী গর্ভে বিলীন সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে পুনরায় সড়কটি পাকাকরণের পদক্ষেপ নেব। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ইতিপূর্বে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনী নদীর ভাঙন কবলিত বাঁকা অংশে ব্লক দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। অবশিষ্ট নদী গর্ভে বিলীন বাড়ি, ঘর ও পাকা সড়কের মেরামত কল্পে সংশ্লিষ্ট দপ্তর পদক্ষেপ নেবে।

বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করছেন। বংশাই নদীর ভাঙনে ফতেপুর হাটবাজার ও স্কুলসহ আশপাশের বেশ কেয়কটি গ্রাম বিলীন হচ্ছে, অপর দিকে লৌহজং নদী ভাঙনে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরাটী নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় (বিএনবি উচ্চ বিদ্যালয়) ও বরাটী বাজার বিলীন হতে চলেছে। আতঙ্কে ঐ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭০০ শতাধিক শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, বংশাই- লৌহজং নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনকবলিত স্থান রক্ষার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন বলেন, মির্জাপুরে নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে । ভালো ভাবে কাজ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে ।

ইত্তেফাক/এনএন