‘আমি জগন্নাথের শের, তোরে মেরেই ফেলবো’ বলে শিক্ষার্থীকে ‘পেটালেন’ ছাত্রদল নেতা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬

‎‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব’—এমন হুমকি দিয়ে এক শিক্ষার্থীকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শের আলীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শের আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ দাবি করেন। তিনি মঙ্গলবার প্রক্টর অফিসে এই বিষয়ে অভিযোগ জমা দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম হাসানান আল আবিত (সাবায়েত)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শের আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তার ছোট ভাই ও হবু স্ত্রীর ওপর হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে আবিত উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি তার ছোট ভাই, হবু স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের এক বন্ধুকে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হলে তিনি সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তার ছোট ভাই ও বন্ধু তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন আইএমএলের শিক্ষার্থী শের আলীসহ কয়েকজন কোনও কিছু না জিজ্ঞেস করেই তারা আবিতের ছোট ভাই ও তার বন্ধুকে মারধর শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে আবিতের হবু স্ত্রী এগিয়ে এসে তাদের সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানালেও হামলা থামেনি। বরং শের আলী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

‎শোরগোল শুনে আবিত ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা এনে শের আলী তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় শের আলী বলেন, ‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব।’


অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় ১৮তম ব্যাচের শাওন, ২০তম ব্যাচের রাব্বিসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন। এ সময় ভুক্তভোগীর হবু স্ত্রীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তাকেও পেরেকযুক্ত তক্তা দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

প্রক্টরের কাছে দেওয়া অভিযোগে আবিত বলেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রক্টর মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শের আলী বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা উচিত। অভিযোগে যে মারধর ও হেনস্তার কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বরং ঘটনাস্থলে সাবায়েতই আমাকে মারধর করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। প্রশাসনের তদন্তে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি জেনেছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং সেটি প্রশাসন আমলে নিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ডেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। এ ঘটনায় উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও শোনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত শের আলীকে তলব করা হয়েছে। তার বক্তব্য শোনার পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও পর্যালোচনা করা হবে।’

ইত্তেফাক/এমএসআর