রাজহাঁস চুরির অপরাধে যুবকের ১০০ রাকাত নামাজ আদায়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৪

ভোলার লালমোহনে দুটি রাজহাঁস চুরির অভিযোগে মো. নাজিম (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে ব্যতিক্রমী শাস্তি দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত মো. নাজিম লালমোহন পৌরসভার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথা এলাকার বুলু হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় চোরের উপদ্রব বেড়েছে। রাতের অন্ধকার নেমে আসলেই বাসিন্দাদের হাঁস-মুরগিসহ নানান মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ওই গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির মো. এমরান হোসেন রাকিব নামে এক বাসিন্দার লালন-পালন করা এবং বাইরের ঘরে থাকা দুটি রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পেয়ে ধাওয়া দিয়ে হাঁসসহ তাকে আটক করেন। এ সময় তিনি আর কখনো এমন কর্মকাণ্ড করবেন না বলে জনসম্মুখে অঙ্গীকার করেন। পরে তাকে স্থানীয় লোকজন মিলে শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ান। একইসঙ্গে তাকে তওবা করিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, হাঁস দুটি তাদের পরিবারের অনেক শখের ছিল। স্থানীয়দের তৎপরতায় হাঁস উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তকে মারধর না করে ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবু তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হাঁস চুরির অপরাধে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে, লোকজন জানিয়েছেন তার বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরির অভিযোগ আছে। 

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি থানায় কেউ জানায়নি। রাতে এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল চলছে। 

এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

 
ইত্তেফাক/এনটিএম