মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রস্তুতি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১৮

 

মীর আন্-নাজমুস সাকিব

 

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর। অত্যন্ত সম্মানজনক ও একুশ শতকের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হতে পারা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার অন্যতম সুযোগ আসন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি)-এর অধীনে আগামী ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রি. তারিখ শুক্রবার ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ধরনের এ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই পাবেন ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষক পদটিকে ২০১২ সালে ১০ম গ্রেডের (তত্কালীন ২য় শ্রেণি) নন-ক্যাডার গেজেটেড মর্যাদা প্রদান করা হয়। এরপর থেকেই নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা চলে যায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)-এর হাতে। পরবর্তীতে ৩৪তম, ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের এ পদে নিয়োগ প্রদান করা হলেও এবারই প্রথম সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে। ১২টি বিষয়ে ১৩৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি নি:সন্দেহে চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যতের বার্তা বয়ে এনেছে। এসময়ে একটি সময়োপযোগী ও নিয়মতান্ত্রিক প্রস্তুতিই এ সুন্দর ভবিষ্যতকে নিশ্চিত করতে পারে। এক্ষেত্রে বেশি বেশি পড়ালেখার চেয়ে  বোঝে বোঝে পড়ালেখার ওপর জোর দিতে হবে।

 

পরীক্ষার মানবণ্টন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লিখিত পরীক্ষায় বাংলা থেকে ৫০টি, ইংরেজি থেকে ৫০টি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) থেকে ৪০টি এবং গণিত ও মানসিক দক্ষতা থেকে ৬০টি এমসিকিউ থাকবে। দুই ঘন্টাব্যাপী এ পরীক্ষায় প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ করে নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে অংশগ্রহণ করা যাবে মৌখিক পরীক্ষায়। যেখানে থাকবে ৫০ নম্বর, যার মধ্যে ন্যূনতম ২০ নম্বর পেতে হবে উত্তীর্ণ হতে হলে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতে বিষয়ভিত্তিক পৃথক পৃথক মেধাতালিকা করা হবে নিয়োগ সুপারিশের জন্য। কাজেই যেসব বিষয়ে পদের অনুপাতে চাকরি প্রার্থী বেশি, সেগুলোতে চাকরি পেতে বেশি নম্বর এবং যেসব বিষয়ে পদের অনুপাতে চাকরি প্রার্থী কম, সেগুলোতে চাকরি পেতে তুলনামূলক কম নম্বর পেলেও সম্ভাবনা থাকে। মৌখিক পরীক্ষায় যেহেতু মাত্র ৫০ নম্বর, তাই ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেতে পারলে চাকরির সুপারিশপ্রাপ্তিতে এগিয়ে থাকবেন চাকরি প্রার্থীরা। প্রশ্ন মধ্যম মানের হলে ২০০ এর মধ্যে কমবেশি ১২৫ থেকে ১৪০ নম্বর তুলতে পারলে সেইফ জোনে থাকা যাবে।

 

বিপিএসসির নন-ক্যাডার পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিএস ও অন্যান্য নন-ক্যাডার পরীক্ষার পুরনো প্রশ্ন থেকে প্রচুর কমন পাওয়া যায়। সুতরাং প্রস্তুতির শুরুতেই ১০ম-৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং বিপিএসসির সর্বশেষ চার বছরে গৃহীত সকল এমসিকিউ পরীক্ষার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রশ্নগুলো সমাধান করা যেতে পারে বিভিন্ন জব সল্যুশন, প্রশ্নব্যাংক বা বিশেষ সংখ্যা থেকে। তবে ইতিপূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত সরকারি মাধ্যমিকের নন-গেজেটেড সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধানের খুব একটা প্রয়োজন নেই বললেই চলে। যাদের বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই ভালো প্রস্তুতি রয়েছে, তাদের নতুন করে আর প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। পরীক্ষার আগে একটু ঝালিয়ে নিলেই চলবে।

 

বাংলা অংশে ৫০ নম্বরের মধ্যে কমবেশি ২৫টি করে প্রশ্ন থাকবে সাহিত্য ও ব্যাকরণ থেকে। সাহিত্যের জন্য প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকে চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, মুসলিম সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য ও গীতিকা সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর শেখা যেতে পারে। আধুনিক যুগ থেকে পড়তে হবে গদ্যের ইতিহাস, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও সমসাময়িক এবং বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী। এক্ষেত্রে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনবন্ধু মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদদীন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, ফররুখ আহমদ, কায়কোবাদ, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আল মাহমুদ, আবুল ফজল, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল হাসান, আহসান হাবীব, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরী, প্যারীচাঁদ মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, শওকত ওসমান, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সেলিম আলদীন, শামসুর রাহমান, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ, দিলারা হাসেম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন কবির, হুমায়ূন আহমেদ, জাহানারা ইমাম, রাবেয়া খাতুন, কবীর চৌধুরী, রাজিয়া খান, গোলাম মোস্তফা, সিকান্দার আবু জাফর, কাজী মোতাহার হোসেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, যামিনি রায়, সুধেন্দ্রনাথ দত্ত, অমীয় চক্রবর্তী ও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল থেকে প্রশ্ন অবশ্যই থাকবে বলে আশা করা যায়। উল্লিখিত সাহিত্যিকদের জন্ম ও মৃত্যু সাল, জন্মস্থান, উল্লেখযোগ্য রচনা, সম্পাদিত, পত্রিকা, ছদ্মনাম, উপাধি ও প্রাপ্ত পুরস্কার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, উপন্যাস, কাব্য, ছড়া এবং উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনী, প্রহসন, নাটক নাম এবং এগুলোর রচয়িতার নাম সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাটক, প্রথম উপন্যাস, প্রথম সার্থক উপন্যাস, প্রথম গীতিকাব্য, প্রথম বাংলা অনুবাদ, প্রথম সামাজিক নাটক, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকী, প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক, প্রথম একুশের কবিতা, প্রথম নাট্যকার, প্রথম মহিলা কবি, প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক, প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, প্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী ইত্যাদি সম্পর্কেও জানতে হবে। বাংলা ব্যাকরণ থেকে ভাষা, বর্ণ, শব্দ, সন্ধি, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, অনুসর্গ, ধাতু, সমাস, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, বাক্যের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, পারিভাষিক শব্দ, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা ও বাক্য সংকোচন থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বোর্ড বই এবং বাজারে প্রচলিত নিয়োগ পরীক্ষার বইগুলো বাংলা অংশের প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইংরেজি অংশে ৫০ নম্বরের মধ্যে ইংরেজি সাহিত্য ও গ্রামার থেকে কমবেশি ২৫টি করে প্রশ্ন থাকবে। ইংরেজি সাহিত্য থেকে যুগবিভাগ, সাহিত্যিকদের নাম, তাঁদের যুগ, তাঁদের বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম, লিটারারি টার্মস, প্রাপ্ত পুরস্কার, তাঁদের রচিত কবিতা, উপন্যাস বা নাটকের বিখ্যাত লাইন এবং চরিত্র থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

                                     পরের অংশ আগামীকাল

                                       মতামত:০১৭১৪৭০৫৭২৭