রামগড়ে ফের ডাকাতি, ৪ ডাকাত গ্রেফতার

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২০:০১

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌর এলাকার কমপাড়ায় শুক্রবার ভোররাতে মো. ইউছুফ নামে এক চাল ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এদিকে পুলিশ তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযানে ডাকাতির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ চার ডাকাতকে আটক করেছে। 

আটক ডাকাতরা হলো, পৌরসভার তৈচালাপাড়ার নুরুল আমিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৯), নোয়াখালীর সুধারাম থানার পশ্চিম শুলকিয়া চৌধুরিবাড়ির মৃত চৌধুরি মিয়ার ছেলে শাহ আলম প্রকাশ টুকু (৩৫), চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের মালিয়াইশ গ্রামের ধনগাজি  মাঝিবাড়ির আহসান উল্লাহ প্রকাশ নুরুজ্জামনের ছেলে নুরুন্নবী প্রকাশ নাজিম উদ্দিন (৩২) ও রামগড়ের তৈচালাপাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুর ইসলাম (৩৫)। 

পুলিশ ও ডাকাতির শিকার গৃহকর্তা জানায়, ডাকাতরা বাসার পেছনের দরজার লকার ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। গৃহকর্তার ভাগিনা নুরুল আলমের কক্ষে ঢুকে প্রথমেই তার হাতমুখ বেধে ফেলে। পরে ধারালো অস্ত্রের মুখে তার মাধ্যমে গৃহকর্তাসহ বাসার সকল সদস্যকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একটি কক্ষে হাত-মুখ বেঁধে আটকে রাখে। 

ডাকাতরা ইউছুফকে হত্যার ভয় দেখিয়ে আলমিরার চাবি নিয়ে নগদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন  লুট করে।পরে মামলা না করার হুমকি দিয়ে বাড়ির সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পালিয়ে যায়।
 
এদিকে, ডাকাতি করে পালানোর সময় এলাকার পাহারাদারদের নজরে এলে তারা ডাকাতদের ধাওয়া করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযানে নামে। রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদের নেতৃত্বে থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো. আব্দুল হান্নান অটো রিকশা যোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় সোনাইপুল বাজার এলাকা থেকে তিন ডাকাত শাহ আলম, নাজিম ও নুর ইসলামকে আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির নগদ দুই লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও ১৩ আইটেমের স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তৈচালাপাড়ার বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

আটক ডাকাত নুর ইসলাম জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে যৌথখামার এলাকার বনবিধি বাগানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে বসে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করে। সে  সময় আটককৃত চারজন ছাড়া আরও চারজন উপস্থিত ছিল। ডাকাতিতে তার আটজন অংশ নেয়। সে আরও জানায়, সম্প্রতি কালাডেবা ও চৌধুরিপাড়ার দুটি বাড়িতে তারাই ডাকাতি করেছিল। তবে ওই ডাকাতির সময় নজরুল তাদের সঙ্গে ছিল না।

আরও পড়ুন: যুবতীর অসামাজিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় কিশোর হত্যা

থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি ডাকাতি মামলা, শাহ আলমের নামে একটি ডাকাতি মামলা, নজরুল ইসলামের নামে সেনাবাহিনীর সদস্য অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের চারটি মামলা ও  নুর ইসলামের নামে দুটি মামলা রয়েছে। তিনি একটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
 
তিনি আরও বলেন, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। গৃহকর্তা মো ইউছুফ বাদি হয়ে রামগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ইত্তেফাক/অনি