জলকচু চাষে সচ্ছলতা আসে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৭

চা  ষা  বা  দ

 আবুল কাসেম ভূইঁয়া

 

আমাদের দেশে জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু সবজি হলো জলকচু। জলকচুর পাতা, কাণ্ড, ফুল এবং মূল সব কিছুই খাওয়া যায়। জলকচুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকায় চিকিত্সকরা জলকচু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে জলকচুর চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে একটু নিচুস্থানে ছায়াযুক্ত পরিবেশে জলকচুর চাষ ভালো হয়। জলকচু চাষ করে অনেক  গরিব কৃষক সচ্ছলতার মুখ দেখছেন। অন্য সবজির তুলনায় স্বাদ বেশি হওয়ায় জলকচুর চাহিদা সব সময় একটু বেশি থাকে। জলকচুর দামও অন্য সবজির  তুলনায় একটু বেশি।

জলকচু চাষ বেশ সহজ। অতিরিক্ত শ্রম দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। চারা রোপণের আগে জমিতে ভালোভাবে চাষ দিয়ে গোবর এবং রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের পর জমিতে পানি সরবরাহ করতে হয়। জমিতে পানির পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে করে গাছ ডুবে না যায়। গাছ ডুবে গেলে গাছ পচে নষ্ট হয়ে যায়।

ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের দিকে চারা রোপণ করলে চলে। চারা রোপণের পর জমিতে হাল্কা করে চাষ দিতে হয়। চারা রোপণের ৪৫ দিন পর জলকচু গাছের লতি তোলা যায়। লতি তোলার পর ফুল আসে; এই ফুলও তোলা যায়। প্রতিটি জলকচু গাছ প্রায় ১০ ফুট লম্বা হয় এবং প্রতিটি গাছের ওজন হয় ২০-২৫ কেজি। বাজারে প্রতি কেজি জলকচুর লতি বিক্রি হয় ২২-৩৮ টাকা। কচুর ফুল বিক্রি হয় ৪০ টাকা প্রতি কেজি। প্রতিটি জলকচু আকার ভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে জলকচু চাষ করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। জলকচু চাষ করে বছরে আয় হয় এক লাখ টাকা। সারা বছর ধরে জলকচুর ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে উত্পাদিত জলকচু দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে সবজি হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছে জলকচু অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।