পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই v নোংরা পানিতে সয়লাব
g নির্মল রক্ষিত, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পটুয়াখালীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার অবস্থা এখন বেহাল দশায় পৌঁছেছে। সোলিংয়ে ইট দেবে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। তাছাড়া, মাঝে মধ্যে টার্মিনালের শৌচাগারের সেফটি ট্যাংকি ফেটে মল-মূত্রের পানি বেড়িয়ে বৃষ্টির সময় নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। যাত্রীরা বাসে ওঠা-নামা করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে। বাসের কাউন্টারগুলো বাস টার্মিনাল থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে রাস্তার ধারে। এ অবস্থায় পটুয়াখালীর এই বাস টার্মিনাল যাত্রীদের আদৌ কোনো কাজে আসছে না।
২০০৩ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে কালিকাপুর এলাকায় নির্মাণ করা হয় আধুনিক মানের পটুয়াখালীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা হয়নি। সোলিংয়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে বড়ো বড়ো খানাখন্দের। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।
এছাড়াও টার্মিনাল ভবনের ব্যবহারের অনুপযোগী গণশৌচাগারের সেপটি ট্যাংক ফেটে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে সয়লাব হয়ে যায় কখনো কখনো টার্মিনাল এলাকা। বৃষ্টির পানি ও সেপটি ট্যাংকের দুর্গন্ধযুক্ত পানির জলাবদ্ধতার মধ্যে লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
পটুয়াখালী-বরিশাল বাস কাউন্টারের দায়িত্বে কুট্টি মৃধা জানান, টার্মিনাল ভবনে বাস কাউন্টার রাখার মতো পরিবেশ নেই। ময়লা-কাদা পানি পেড়িয়ে যাত্রীরা টার্মিনালে যেতে চান না। সেখানে নেই গণশৌচাগার। এ অবস্থায় তারা কাউন্টার সরিয়ে রাস্তার পাশে আনতে বাধ্য হয়েছেন।
পটুয়াখালী-কলাপাড়া-কুয়াকাটায় চলাচলকারী ডলফিন এক্সপ্রেস লিমিটেড পরিবহনের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বাদশা জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ এই বাস টার্মিনাল ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করলেও তাদের তেমন কোনো তদারকি নেই। সঠিকভাবে করা হয় না এখানকার উন্নয়ন কাজ। এখান থেকে প্রতিদিন দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ প্রায় আড়াইশ যাত্রীবাস চলাচল করে। তাদের নিকট থেকে আদায় করা হয় পৌর ট্যাক্স। অথচ এই সকল গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা নেই। অব্যবস্থার কারণে টার্মিনাল ভবনও অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। সেটি যাত্রীসাধারণের কোনো কাজে আসছে না।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর এস এম মতিন মাহমুদ জাহিদ বলেন, এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। তখন ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়নি। চারপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। এখন কে কার সম্পত্তির ওপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা দেবে। তিনি আরো বলেন, বাস টার্মিনালে বিদ্যুত্, পানি, শৌচাগার ও বিশ্রামাগারসহ যাত্রীসেবার উপযোগী সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থার দায়িত্ব ইজারাদারের। রাতে টার্মিনাল ভবনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ভয়ে মানুষ সেখানে যায় না।
