চামড়ার বাজারে ধস, অর্থ সংকটে মাদ্রাসা-এতিমখানা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৫

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

কোরবানির চামড়ার দরপতনে চরম বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসা কর্তৃক পরিচালিত লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর কর্তৃপক্ষ। তারা এখন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বছরই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির পর চামড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দেওয়া হয়। আর ঐসব সংগৃহীত চামড়া বিক্রির অর্থে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দ্বীনি শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাবারে যোগান হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে পশু চামড়ার দাম না থাকায় ঐসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ এবারে কোরবানিতে পাওয়া চামড়া পানির দামে বিক্রি করে যে অর্থ পেয়েছেন তাতে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থানকারী দ্বীনি শিক্ষার শিক্ষার্থীদের এক মাসেরও খাবারের যোগান দেওয়া সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈয়দপুর শহরের দারুল রুহুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ হারুন রেয়াজীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শহরের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এ মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয় ১৯২৬ সালে। এ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থী দ্বীনে শিক্ষা গ্রহণ করছে। এদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। যাদের তিন বেলা খাবার মাদ্রাসা থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

তিনি জানান, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে এলাকার লোকজন কয়েকশ পশুর চামড়া মাদ্রাসায় দান করেন। আর ঐ চামড়া বিক্রির অর্থে মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় ছয় মাসের খাবার সংস্থান হয়। এবারে কোরবানি ঈদে মাদ্রাসার ফান্ডের জন্য ৩৯৯ পিস গরুর চামড়া এবং ১৮১ পিস ছাগলের চামড়া মিলেছে। কিন্তু এবারে বিক্রি করা চামড়ার অর্থে লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের একমাসেরও খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় বছরের বাকি মাসগুলো লিল্লাহ বোর্ডিং কিভাবে পরিচালনা করবেন তা নিয়ে মারাত্মক চিন্তায় পড়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আবারো হাত পাততে হবে মানুষের দ্বারে।

শহরের কাজীপাড়ায় অবস্থিত আল-জামিআতুল আরাবিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মহতামিম মাওলানা আবুল কালাম কাসেমী জানান, তার মাদ্রাসায় সকলেই আবাসিক শিক্ষার্থী। এবারের কোরবানিতে মাদ্রাসার ফান্ডে ২৯২ পিস গরুর এবং ৭০ পিস ছাগলের চামড়া পাওয়া গেছে। যা বিক্রি করে মিলেছে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা। ঐ অর্থে আবাসিক ছাত্রদের এক-দেড় মাসের খাবার চালানো যাবে। তিনি জানান, কওমি মাদ্রাসাগুলোর আয়ের অন্যতম উত্স হচ্ছে কোরবানির চামড়া।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ই্উএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া জানান, এবারের কোরবানির চামড়ার মূল্য না পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা নষ্ট করার মতো কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করেছি।