গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৪

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমী নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি সকাল ৬টায় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল এলাকায় অবস্থান করছিল। এর কেন্দ্র ছিল ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। সে সময় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, গভীর নিম্নচাপটি আর শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে নিম্নচাপের কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল রয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ইত্তেফাক/এমএএম