রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও অপসারণ দাবির একদিন পর তাকে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে সোমবার এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত রোববার উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউএনও শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে পাঁচটি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার-সহ নানা অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে-তার অপসারণ দাবি করেন। ওই কর্মসূচির পরদিনই তাকে বদলির আদেশ জারি করা হয়।
বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল রেহাসেন ও উপজেলা যুবদলের নেতা সালেহ আহাম্মেদ সালাম জানান, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে এবং এতোদিন গোপন থাকা প্রকৃত ঘটনা বা সত্য সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যাবে। বিশেষ করে উনি দীর্ঘদিন পাঁচটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যে দুর্নীতি করেছেন তা বেরিয়ে আসবে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করার সুবাদে কোটি-কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এখন অনেকের মুখে-মুখে ফিরছে।
এর আগে বিএনপির সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, শাম্মী আক্তার একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাঘা ও আড়ানী-দুই পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক ভারসাম্য ব্যাহত হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষার তালিকা প্রকাশ এবং পরীক্ষা গ্রহণে তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন শাম্মী আক্তার বলেন, আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। কিছু বিএনপি নেতার অনৈতিক দাবি ও তদবির না রাখায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এর মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

