দক্ষিণ কোরিয়ার সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান উত্তরের

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৬

আরো দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করেছে পিয়ংইয়ং

বিবিসি ও রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ‘নির্লজ্জ’ অভিহিত করে আন্তকোরীয় আলোচনা শেষ হয়ে গেছে বলে জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর কমপক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার সকালে উেক্ষপণ করা ঐ ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সাগরে গিয়ে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অনুশীলনের প্রতিবাদ করে একে যুদ্ধের মহড়া বলে অভিহিত করেছে উত্তর কোরিয়া। গত কয়েক সপ্তাহে অনেকগুলো স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দেশটি। গত এক মাসের মধ্যে উত্তর কোরিয়া এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করল। এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে সাগরে আরও দুটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণকে তারা আসন্ন কোনো হুমকি বলে মনে করছে না। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে উত্তর কোরিয়া অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেটিকে আগের সপ্তাহগুলোতে ছোড়া স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মতোই মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে পরামর্শ করছে বলে জানিয়েছেন আরেক মার্কিন কর্মকর্তা।

দক্ষিণ কোরিয়ার জেসিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টার পর ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো’ উেক্ষপণ করা হয়েছে এবং সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ভবিষ্যত্ নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ফের আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ৩০ জুনের এক বৈঠকে ওই আলোচনা ফের শুরু করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ঐ আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

গত বৃহস্পতিবার জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন (১৯১০-৪৫) থেকে স্বাধীনতা অর্জন করার ক্ষণটিতে দেওয়া এক ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ‘আলোচনার পরিবেশ বজায় আছে’ বলে মন্তব্য করেন এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে দুই কোরিয়ার সংযুক্তি ঘটানোর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।