নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২২:২০

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল করিম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এতে তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জারুলিয়াছড়ি সীমান্তের ৪৬-৪৭ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে রাখাইন রাজ্যের গরবিটা এলাকার আউং থা পায়া পোস্টসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন।

আহত আবদুল করিম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মকতুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় লোকজন আহত আবদুল করিমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজান্মেল হক বলেন, স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে—রাখাইন রাজ্যে। বিস্ফোরণে আবদুল করিমের বাঁ পায়ের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিকেল পাঁচটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য করিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কী কারণে করিম মিয়ানমার সীমান্তে গেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা মো. কামাল মিয়া বলেন, জারুলিয়াছড়ির বিপরীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে মিয়ানমার সীমানা ভাগ করে রেখেছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাখাইন রাজ্যের দখলদার আরাকান আর্মি কাঁটাতারের পাশে অসংখ্য স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। সীমান্তে শূন্যরেখায় অনেকে ফসলের চাষ করেন। অনেকে মাদক ও পশু চোরাচালান করেন। আজ বেলা ২টার দিকে সীমান্তের ওপারে স্থলমাইন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে লোকজনের সহায়তায় বাংলাদেশি যুবক আবদুল করিমকে উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণে তার বাঁ পায়ের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আবদুল করিম আরও তিনজনকে সঙ্গে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শূন্যরেখা অতিক্রম করে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করেন। বেলা দুইটার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে থাকা তিনজন বাংলাদেশের পালিয়ে আসেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আবদুল করিমকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 
ইত্তেফাক/এমএস