কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস কম্পাউন্ডে ঢুকতেই চোখে পড়ে ‘নিজের কাজ নিজে করুন, দালাল ও প্রতারক থেকে দূরে থাকুন’ ‘ভূমি সেবায় দুর্নীতিকে লাল কার্ড’, ‘ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’, ‘নিজের সম্পত্তির দখল বজায় রাখুন, ‘অবৈধ দখল থেকে দূরে থাকুন’ ‘ভূমি সংক্রান্ত আইন জানুন আপনার ভূমি নিরাপদে রাখুন’ ‘ভোগান্তিমুক্ত ভূমি সেবা আমাদের অঙ্গীকার, দুর্নীতিমুক্ত ভূমি সেবা আপনার অধিকার’ ‘ভূমি সেবায় আইন বহির্ভূত অর্থ প্রদান ও গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ ‘নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন, ভূমির মালিকানা নিষ্কন্টক রাখুন’-এমন অসংখ্য শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন।
কার্যালয়ের পূর্বপাশে ছোট্ট একটি কক্ষ। নাম ‘শীতল ছায়া’। তাতে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা অপেক্ষা করছেন। এসিল্যান্ড যখন একজনের সমস্যার সমাধান করছেন অন্যরা তখন সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। গাছের ছায়ার নিচে গ্রিল দিয়ে আবৃত ঘরটিতে রয়েছে দখিনা হাওয়া আসার সুযোগ। রয়েছে সিলিং ফ্যান। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, নেই ছুটোছুটি। সেখানে সেবাগ্রহীতারা অপেক্ষা করছেন।
নিজের কক্ষে বসে আছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ হোসেন। সামনে রয়েছে একটি টিভি মনিটর। সেখানে অফিসের বিভিন্ন রুমের সিসি ক্যামেরার চিত্র তিনি দেখতে পান। আর তার সামনে দুই সারিতে বসে আছেন সেবাপ্রার্থীরা। এক এক করে নিজ নিজ জমিজমার সমস্যার কথা বলছেন তারা।
কালীগঞ্জ ভূমি অফিসে গিয়ে অন্যরকম এসব চিত্র দেখা গেল। জমিজমার সমস্যা নিয়ে যারা এই কার্যালয়ে আসেন, তারা যাতে দালালদের হাতে না পড়েন, সে জন্য এই সেবা ব্যবস্থা চালু করেছেন এসিল্যান্ড সোহাগ হোসেন। এ কাজের প্রেরণা তিনি পেয়েছেন একই উপজেলার নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানের কাছ থেকে। দালালের দৌরাত্ম্য থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে রয়েছে অভিযোগ বক্স। সেখানে লেখা ভূমি অফিসের সেবার বিষয়ে আপনার যে কোনো মতামত/পরামর্শ/অভিযোগ দাখিল করুন। এক স্থানে বড় করে লেখা ‘আপনার সততা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল হাজিরা। যোগদানের পর থেকে একের পর এক উদ্ভাবনী উদ্যোগে উপজেলা ভূমি অফিসের চেহারা বদলে দিয়েছেন তরুণ সরকারি কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন।
গত বছরের ৩০ আগস্ট এই কার্যালয়ে যোগ দেন সোহাগ হোসেন। তিনি এসে দেখেন তার কার্যালয়ে দালালদের দৌড়ঝাঁপ। কাজের জন্য কেউ এলেই তাদের খপ্পরে পড়তেন। তাই দালালদের হাত থেকে সেবাগ্রহীতাদের রক্ষায় মাঠে নামেন তিনি। অফিসের চারপাশের দেয়ালে নামজারির সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানানো। তাতে জমির নামজারি ও খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগবে এবং কোন বিষয়ে কার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, সব তথ্য লেখা আছে।
এ ছাড়া পরিপাটি কার্যালয়ের সামনে কাচের গ্লাস দিয়ে তৈরি হেল্প ডেস্ক ও তথ্য সেবা সেবাকুঞ্জ। সেখানে শ্লোগান রয়েছে ‘ভূমি বিষয়ে জানব, ভূমি আইন মানব।’ সেখানে একজন কর্মী বসে আগত ব্যক্তিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। আগত ব্যক্তিদের কাউকেই কার্যালয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকতে দেখা যায়নি।
