ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার মুখে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের নৌপথ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এ অবস্থায় ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে ইসরায়েল-ইরানের গোপন পাইপলাইন ব্যবহার করতে পারে রিয়াদ।
বুধবার (২৯ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ষাটের দশকে তৎকালীন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর অর্থায়ন ও ইসরায়েলি প্রকৌশলে নির্মিত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইলাত-আশকেলন’ পাইপলাইনটি সৌদি আরবের বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জাজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হুথি হামলায় দৈনিক চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে ইউরোপে তেল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন সৌদি আরব থেকে ইলাত পর্যন্ত ৭০০ কিলোমিটার পাইপলাইনের একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট জয় লেটনি জানান যে ইলাত-আশকেলন পাইপলাইনটি বিপরীতমুখী বা উত্তরমুখী প্রবাহে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। সৌদি আরবের মোট রপ্তানির তুলনায় এটি কম হলেও বর্তমান সংকটে বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। তবে এই সুবিধা চালুর আগে ইলাত বন্দরের সংস্কার, গভীরতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক সমীকরণ। সৌদি আরব শুরু থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার কারণে ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উদ্যোগের সমর্থক হলেও ইরান ও হুথিরা এই ধরনের পদক্ষেপকে কঠোর চোখে দেখবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি

