খুলনায় স্কুলছাত্র রিহাদ হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৪

খুলনা মহানগরীর রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মো. রিহাদ হোসেন হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (২৯ জুলাই) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাজমুস শাহাদাত এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী নজরুল ইসলাম।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজু শেখ ওরফে গাংগুয়া, শামীম ওরফে সবুজ মোড়ল, নুর আলম সিদ্দিক ওরফে কলিন্স ওরফে বাদশা এবং জয়ন্ত। এছাড়া মামলার আরও দুটি ধারায় তাদের পৃথক মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামি আবুল কালাম আজাদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর আলম সিদ্দিক ওরফে কলিন্স ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছে। 

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সোহাগ তালুকদার, শামীম হোসেন ও শহিদুর রহমান ওরফে শাওনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালতের সূত্র জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাবার ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিহাদ হোসেন। পরে কয়েকজন যাত্রী তার ইজিবাইক ভাড়া করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার আগে রিহাদ তার মোবাইল ফোন থেকে গ্যারেজ মালিককে জানিয়েছিল, তার ফিরতে দেরি হবে। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না পেয়ে নগরীর আড়ংঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। 

আরও জানা যায়, নিখোঁজের তিন দিন পর ৯ ডিসেম্বর বিকেলে পাশ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার পঞ্চু খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহটি রিহাদের বলে শনাক্ত করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের চাচা শেখ জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

 

 
ইত্তেফাক/এমএসআর