মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দেশটির শত শত রূপান্তরকামী ও তাদের সমর্থক। তাদের দাবি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে অনগ্রসর এ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী আইনি স্বীকৃতি ও কিছু সুরক্ষা পেলেও সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। এ কারণে তারা প্রায়ই চরম আর্থিক সংকটে পড়েন এবং অনেকেই জীবিকার জন্য ভিক্ষাবৃত্তির মতো পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংকটে পাকিস্তান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা পালন করছে। তবে টানা কয়েক মাসের যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে পাকিস্তানের সার্বিক মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে; যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও গভীর সঙ্কটের মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তানের বৃহত্তম ওই শহরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন এবং হাতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, থালা আমাদের খালি’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লেখা দেখা যায়। অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে মুক্তি এবং নিজেদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
আইএমএফের কাছ থেকে পাওয়া পাকিস্তানের বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার দিকে ইঙ্গিত করে এক প্রতিবাদকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমরা রাজপথে ভিক্ষা করি, আর তোমরা ভিক্ষা করো আইএমএফের কাছে।’
বিক্ষোভের আয়োজকরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাসা ভাড়া, জ্বালানি এবং দৈনন্দিন খাবার খরচে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। তারা দেশটির সরকারের প্রতি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, জরুরি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের স্বল্প বাজেটের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানে বহু আগে থেকেই তৃতীয় লিঙ্গ বা স্থানীয়ভাবে ‘খাজা সিরা’ নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা সমাজে আধ্যাত্মিক ভূমিকা পালন করে আসছেন। যেমন বিভিন্ন বিয়ে বা নতুন সন্তানের জন্মের সময় দোয়া ও আশীর্বাদ করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন তারা।
বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা জেন্ডার ইন্টারেক্টিভ অ্যালায়েন্সের নেতা আরাধ্য খান বলেন, ‘খাজা সিরা সম্প্রদায়কে উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে।’
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির হার ৫.৫ শতাংশ (জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালে) থেকে একলাফে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে।
পাকিস্তান সরকারের পরিসংখ্যান সংস্থা বলেছে, গত জুন মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রূপান্তরকামী মানবাধিকারকর্মী শাহজাদী রাই বলেন, খাজা সিরা সম্প্রদায়ের অনেকেই কাজ জোগাড় করতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন; যা দ্রব্যবমূল্য বৃদ্ধির এই ধাক্কাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্যই টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই অতিমাত্রায় ভয়ানক।’
সূত্র: এএফপি

