ট্যানারি শিল্প নগরীতে চামড়া সরবরাহ কম

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৫

লোকসানে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সাভারে ট্যানারি শিল্প নগরীতে পূর্বের তুলনায় এবার কুরবানি ঈদের পশুর চামড়া সরবরাহ কম হয়েছে। কিছু মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারিতে নিয়ে আসলেও আশানুরূপ মূল্য পাননি। তবে এবার চামড়ার মূল্য খুবই কম হওয়ায় অনেক চামড়া ব্যবসায়ী ট্যানারিতে তাদের চামড়া বিক্রি করতে আসেনি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বড়ো কোনো প্রতিষ্ঠান কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেনি। তবে এসব বড়ো প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচা চামড়া সরবরাহ না করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুতকৃত লবণের চামড়া আরো ১৫/২০দিন পরে সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের মাদ্রাসা এতিমখানাসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের চুক্তি অনুযায়ী সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর কয়েকটি কারখানায় কাঁচা চামড়া সরবরাহ করলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হেলাল ট্যানারি, এসবি শাহী ট্যানারি, ইসলামিয়া ট্যানারি, আজমীরি, ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিনস লিঃ, এ কে লেদার, কালু লেদার, ও ভুলুয়া ট্যানারিসহ প্রায় ৮/১০টি ট্যানারি কোরবানি ঈদের পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয় করেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্বে থেকে চুক্তি হওয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছে। তাদের চামড়ার মূল্য পরিশোধ না করলেও দীর্ঘদিনের ব্যাবসায়িক সম্পর্কের কারণেই ঐসব ব্যবসায়ী তাদের কারখানায় কাঁচা চামড়া সরবরাহ করেছেন। তারা নিশ্চিত কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্যমূল্য প্রদান করবে।

ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিনস লিঃ এর এক কর্মকর্তা জানান, কুরবানির ঈদের পর থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫৫ হাজার গরুর চামড়া ও ২৫ হাজার ছাগলের চামড়া ক্রয় করেছে। ঢাকা ও কুমিল্লার একাধিক মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদের কুরবানির পশুর চামড়া পূর্বের ব্যাবসায়িক চুক্তি অনুসারে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বছর কাঁচা চামড়ার মূল্য এতটাই কম যে, চামড়া ট্যানারিতে স্থানান্তর করতে একজন চামড়া ব্যবসায়ীর যে খরচ হয় তা চামড়া বিক্রি করেও ঐ খরচ সে পায় না। জানা গেছে, ট্যানারি শিল্পনগরীর মাত্র ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান (কাঁচা চামড়া) সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এ্যাপেক্সসহ শিল্পনগরীর আরো বড়ো বড়ো ট্যানারি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেনি। এরা ঈদের প্রায় মাসখানেক পর লবণের চামড়া সংগ্রহ করবে।