সিলেটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শাহরিয়ার হাসান পাবন (২৬) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সিফাত নামে তার এক সহপাঠী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাবনের মরদেহে তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে ভান্ডারিয়ায় নেওয়া হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহরিয়ার হাসান পাবন আর্মি ইন্সটিটিউশন অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এআইবিএ) সিলেট এবিবির দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে।
এই ঘটনায় তার পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবার ও সহপাঠীরা জানান, শাহরিয়ারের বাড়ি পিরোজপুরে জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায়। পড়ালেখার জন্য সিলেটের দাসপাড়ার একটি ম্যাচে থাকতেন তিনি। বুধবার তার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়। সেদিন রাতেই শাহরিয়ার ও সিফাত রাতের খাবার আনতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। পথে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
পরে শাহপরান থানার পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত শাহরিয়ার হাসান পাবনকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সহপাঠী ও শিক্ষকরাও রাতে ওসামানী হাসপাতালে পৌঁছান।
পাবনের সহপাঠী সৈয়দ হাসিবুল হাসান সিয়াম রাতেই শাহরিয়ারের বাবাকে মোবাইল ফোনে দুর্ঘটনার খবর জানান। ভোরেই ঢাকা থেকে ছুটে আসেন নিহত শাহরিয়ারের বাবা আবদুল মান্নানসহ পাবনের দুই ভাই সায়মন ইসলাম ও লিয়ন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সহপাঠীরা একে একে ছুটে আসেন হাসপাতালের মর্গে। তখন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়।
নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন,
ছেলেটাকে সিলেটে ভর্তি করে দিয়ে গিয়েছিলাম সুস্থ শরীরে পড়ালেখা শেষ করার জন্য। পড়ালেখা তার শেষ হয়েছে। কিন্তু তার নিথর লাশ নিয়ে যেতে হবে ভাবতে পারছি না।
এসময় পাশেই কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন শাহরিয়ারের বড় দুই ভাই।
আব্দুল মান্নান আরও বলেন, আগের দিন কথা হয়েছে, শাহরিয়ার বলছিল ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। প্র্যাক্টিক্যাল শেষে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু তার বাড়ি ফেরা হলো না। তার মা ছোট্ট ছেলেটার খবর শুনে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাবনের নিথর দেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয় পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ার পথে। সেখানে শুক্রবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে রাতে জানান মেঝো ভাই লিয়ন ইসলাম।
শাহপরান থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ প্রত্যক্ষদর্শীর এক অটোরিকশা চলকের বরাতে বলেন, গভীর রাতে ঘটনাস্থলে বৃষ্টি হচ্ছিল। যাওয়ার পথে শাহরিয়ারদের মোটরসাইকেলকে দ্রুতগতির একটি লরি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন সিফাত ও শাহরিয়ার যাত্রীর আসনে ছিলেন। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

