ফরিদপুর শহরে নেশার টাকার বিরোধে নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ছেলে রাহিম শেখকে (৩০) ঘটনার প্রায় ৯ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ এলাকার আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামেলা আক্তার (৬০) ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নেশার টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই শামেলা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুকান্ত দত্ত জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে একাধিক পুলিশ দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাত ৯টার দিকে রাহিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিগারেটের প্যাকেট, ফয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিহতের মাথায় ভারী ও ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় এক দশক আগে রাহিম শেখ তাঁর সৎ মাকেও কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় কয়েক বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পরও তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত মারধর ও ভয়ভীতি দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

