চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন আদালতে পর্যাপ্ত বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ৯০টি আদালতের মধ্যে ২০টিতে বিচারক নেই বলে জানা গেছে। এ কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। পুরনো মামলার যেমন নিষ্পত্তি হচ্ছে না তেমনি প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা দায়ের হওয়ায় বাড়ছে মামলার জট। এতে ভোগান্তি বেড়েছে বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থীর। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লোকজন বিচারক না থাকায় শুধু হাজির হয়ে মামলার নতুন তারিখ নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্নীতি ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে আদালতটিতে বিচারাধীন রয়েছে ৭০০ এর অধিক মামলা। তাছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন প্রায় আড়াইশ মামলার তদারকি করছে। বিশেষ এই আদালতে এখন চলছে বিচারক সংকট। গত ৭ জানুয়ারি এই আদালতের বিচারক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি আদালত যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বদলি করা হয়। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনাল বিচারক শূন্য থাকায় শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ চাঞ্চল্যকর মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেও বিচারক সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারক শূন্য থাকার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোসনে আরা বেগমকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। কিন্তু কাজে যোগ দেওয়ার আগেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি মাত্র দুই মাস কাজ করার পর গত নভেম্বরে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচারক শূন্য আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার আইনি বিধান রয়েছে কিন্তু দীর্ঘদিন বিচারক সংকটের কারণে এই আদালতে মামলার জট বেড়ে গিয়েছে। বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ছাড়াও চট্টগ্রামের আরো ১৮টি আদালতে রয়েছে বিচারক সংকট। তার মধ্যে জেলা জজশিপের অধীনে দেউলিয়া আদালত, ৩য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, সন্দ্বীপের সিনিয়র সহকারী জজ, পটিয়া চৌকির আওতাধীন চন্দনাইশ আদালতের সহকারী জজ, পটিয়া চৌকির অতিরিক্ত আদালতের সহকারী জজ, সাতকানিয়া চৌকির অতিরিক্ত আদালতের সহকারী জজ, সাতকানিয়া চৌকির লোহাগাড়া আদালতের সহকারী জজ, বাঁশখালী চৌকির সহকারী জজ আদালতগুলোতে রয়েছে বিচারক সংকট। এছাড়া ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে ২য় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারক নেই। এইসব আদালতে রয়েছে ২৯ হাজার মামলা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর বিশাল এলাকা একটি মাত্র অর্থঋণ আদালত দিয়ে বহু কষ্টে চলছে। এক সময় চট্টগ্রামে চার/পাঁচটি বাণিজ্যিক আদালত ও অর্থঋণ আদালত থাকলেও বর্তমানে একটি মাত্র আদালত থাকায় ব্যাপক মামলা জট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আদালতের কার্যক্রমে মামলার পরবর্তী তারিখ দুই/তিন মাসের আগে হয় না। অথচ ছয় মাসের মধ্যে এ মামলা শেষ করার কথা। বিচার কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে খেলাপি গ্রাহকদের পোয়াবারো অবস্থা ও ব্যাংকগুলোর করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যাংকিং খাতকে খেলাপি ঋণের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও আরো কমপক্ষে চারটি অর্থঋণ আদালত স্থাপন জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
