মনোহরদীতে খাল পুনঃখনন শেষে ৪৭ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪

নরসিংদীর মনোহরদীতে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সাশ্রয় হওয়া ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মসূচির অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার মহিষাখালী ও গঙ্গাজলী খালের পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে মহিষাখালী খালের ১ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার এবং গঙ্গাজলী খালের ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ৩ দশমিক ৭২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার মোট ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করায় প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয় হয়।

এতে ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সাশ্রয় হয়, যা সরকারি বিধি অনুসরণ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ স্থানীয় উন্নয়ন, সুশাসন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন।

প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিবিড় তদারকি এবং ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে কাজের পরিমাপ নিশ্চিত করায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, ভুয়া শ্রমিকের বিল এবং আর্থিক অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদরুল ইসলাম মোল্লা (বাবুল) বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় বা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু মনোহরদী উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের আন্তরিক সহযোগিতা, মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত মান বজায় রেখে জনস্বার্থে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। কাজ শেষে যে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 
ইত্তেফাক/এমএস