বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য চক্ষুসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (জিএইচএস) ও দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুই প্রতিষ্ঠান।
গত সপ্তাহে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সভায় গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হক আহমেদ, দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রস পাইপার, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ক্লাস্টার ডিরেক্টর মুসাব্বির আলম, বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রামস জিহান আবেদিন এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কমিউনিটি পর্যায়ে চক্ষুসেবা সম্প্রসারণ, প্রাথমিক চক্ষুসেবা কেন্দ্র (প্রাইমারি আই কেয়ার সেন্টার) প্রতিষ্ঠা এবং দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমানে বগুড়া, বরিশাল ও সাতক্ষীরায় পরিচালিত দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ কর্মসূচির আওতায় ৪৮ হাজারের বেশি ছানি অপারেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার, ছানি রোগীদের জন্য ১ হাজার অস্ত্রোপচার এবং ২৩ হাজার ৬৫০ জোড়া চশমা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে নারী ও স্কুলগামী শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জিএইচএস ও দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা কমানো, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবার পরিধি বাড়ানো এবং সময়মতো চোখের চিকিৎসা গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান প্রতিনিধিদলের কাছে গ্রামীণ গ্রুপের বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ তুলে ধরেন। পরে প্রতিনিধিদল গ্রামীণ হেলথটেক পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত হন।

