আজ থেকে শুরু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪

ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিধ্বংসী সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা সোমবার শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সোমবার বিকেল থেকেই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তার ভাষায়, ইরান পরিকল্পিত হামলার ব্যাপ্তি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং এখন দুই পক্ষ আলোচনার পথেই এগোচ্ছে।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারসহ আঞ্চলিক অংশীদাররা তাকে সপ্তাহান্তে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, সমঝোতার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও চুক্তি হবে।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সোমবারের বৈঠক কোথায় হবে কিংবা কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।

অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা স্থগিত রাখার কোনো অনুরোধ জানায়নি; ট্রাম্পের এ বক্তব্য ‘আরেকটি নতুন মিথ্যা’। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে’ এগোচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির জন্য তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। তিনি বলেন, “দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত... আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।”

তিনি আরও দাবি করেন, পরিকল্পিত হামলাটি বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান হতে পারত এবং এতে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেত। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ছিল কি না, এ প্রশ্নের জবাব দেননি ট্রাম্প।

এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। তার ভাষায়, “আমরা কোনোভাবেই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।”

ট্রাম্পের আলোচনা-সংক্রান্ত ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

 

 
ইত্তেফাক/এসএ