পাকিস্তানের থানার সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ১৪

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার একটি থানার সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় আফগানিস্তান সীমান্তের কাছের কাবাল শহরের থানার প্রবেশদ্বারে এই ঘটনা ঘটে। 

সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ওমর খান জানান যে প্রবেশপথে তল্লাশির জন্য পুলিশ সদস্যরা থামানোর চেষ্টা করলে হামলাকারী নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংহিসতার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশের শেষ মুহূর্তে এই হামলাটি ঘটে। 

সোয়াত পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ফিদা হোসেন জানান যে আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

বিক্ষোভকারীরা তাদের এলাকায় পাকিস্তান তালেবানের (টিটিপি) পুনরায় সংগঠিত হওয়ার প্রতিবাদে এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেন যে সাধারণ মানুষের ওপর কড়াকড়ি করা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ডনের বরাতে এক বক্তা বলেন, ‘আমরা আর এক প্রজন্ম বিধবা ও এতিম দেখতে চাই না।’

ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারী, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানরা সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে টিটিপির হামলায় সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মতে, গত জুলাই মাসে এই অঞ্চলে ১৫৪ জন সন্ত্রাসী হামলায় মারা গেছেন। পাকিস্তান সরকার এসব হামলার জন্য আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে দায়ী করলেও কাবুল সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ