নাম তার আমেনা খাতুন। বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। বয়সের ভারে একেবারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন তিনি। দেহের হাড়গুলো প্রায় মাংসবিহীন চামড়ার সাথে মিশে গেছে। আমেনার সব দাঁতই প্রায় পড়ে গেছে। চোখে কম দেখেন। কানেও কম শোনেন। লাঠি ভর করেই হাঁটতে হয় তাকে। এরপরও রুগ্ন দেহ নিয়ে জীবনের চাকা ঘুরাতে বিরামহীন এগিয়ে চলা। বৃদ্ধা আমেনা দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য হাড্ডিসার দেহ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ছুটে যান। বসবাস করেন এক খণ্ড জমির উপর দাঁড়ানো দুচালা একটা ছাপড়া ঘরে। এ ঘরেই থাকেন বাক প্রতিবন্ধী সাগর (৩০) নামে তার ছোট ছেলে। একটু ভাল খাবার সাগরের কপালে জোটে না কখনো। তাই সাগরেরও রোগা শরীর। মাঝে মধ্যে মানুষের ফরমায়েশ শুনলে ১০/২০ টাকা করে পায় সে। এ দিয়েই কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে চলে তার দিন। আরেক ছেলে ছাদেক হোসেন অসুস্থ। তবে সে বিয়ে থা করেছে। সে রিকশা চালাতে পারে কোনো রকমে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে তার। আমেনার বড় ছেলে গোলবাহার ওরফে গুলু কাঁচা মালের ব্যবসা করতো। তারও সংসার চলে না। অর্থাত্ তাদের পরিবারের সকলেরই নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আর যে কারণে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পাততে হয় তাদের মা সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ গ্রামের মৃত শেখ গৈজুদ্দিনের স্ত্রী বিধবা আমেনা খাতুনকে। অথচ এই বয়সেও তিনি পান না কোনো বিধবা ও বয়স্ক ভাতা। কষ্টে কাটে অসহায় এই বৃদ্ধার জীবন।
একান্ত সাক্ষাতে তিনি বলেন, স্বামী মারা যাবার পর থেকেই খুব কষ্টে আছি। ছেলে বউ নিয়ে আলাদা সংসার করে। ছোট ছেলে পাগল আমার সাথে থাকে। শরীরে শক্তি না থাকায় কাজও করতে পারে না। আমার কপালে ভালো খাবার জোটে না। ভাল চিকিত্সা নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এলাকার দোকান থেকেই দুই-একটা ওষুধ চেয়ে আনি জ্বর ব্যথা হলে। মেম্বাররা আমাকে একটি বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড ব্যবস্থা করে দিলে ওষুধ পথ্য কিনতে ও দুবেলা খেয়ে-পরে বাঁচতে পারতাম; কিন্তু সবাই আসে শুধু ভোটের সময়। তারপর আর তাদের দেখা পাই না। এসব কথা বলতে বলতে এক সময় কেঁদে ফেলেন তিনি।
