নির্বাচন নিয়ে কি কানামাছি খেলা হচ্ছে?

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৩

জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু মনোনয়ন প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত হয়নি এখনো। দেখানো হচ্ছে নানা যুক্তি ও অজুহাত। নির্বাচন নিয়ে কি তবে কানামাছি খেলা হচ্ছে? এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকদের মতামত প্রকাশিত হলো আজ

 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের বক্তৃতায় ও বিবৃতিতে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলছেন।  কিন্তু এ কথা বলা তাদের জন্য মোটেই সমীচীন নয়। কারণ তারা এখনো ফিল্ডে  নামেননি। ফিল্ডের বাইরে থেকে তারা লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলতে পারেন না। ফিল্ডে আসলে অবশ্যই তারা লেভেল প্লেইং ফিল্ড দেখতে পাবেন। জনসাধারণ লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করে দিবেন।

মাখরাজ খাঁন

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

 

এত কিছুর পরও আগামী নির্বাচন নিয়ে কিছু আশাবাদের কারণ রয়েছে। এই নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আমার অভিমত। এতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিতর্কিত রকিব কমিশনের চেয়ে শ্রেয়তর হবে বলেও কিছু আশাবাদ রাজনৈতিক মহলে রয়েছে। সব প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে ৩০০ আসনেই বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নির্বাচনে কারচুপি করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া নির্বাচনকালে পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ভূমিকা পালনের অবকাশ রয়েছে। সহজে এবং দ্রুত এসব মাধ্যমে কোনো ঘটনার ব্যাপক প্রচার সম্ভব বলে তা অনিয়ম ও কারচুপির পথে বিরাট প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

মিনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

যে ধরনের নির্বাচনী ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হোক না কেন তাতে জনগণের অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা নির্বাচনের প্রাথমিক ও মৌলিক উপাদান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাকি আরমাত্র কয়েকদিন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে আবার বিরোধী দল তা মানবে না, মানি না বলে জলঘোলা করেও এক পর্যায়ে গিয়ে তা মেনে নিচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের দিকে তাকালেই দেখা যায়, সরকার ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখনো চলছে বাকযুদ্ধ। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, নির্বাচন নিয়ে যে কানামাছি খেলা হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

 মো. আল-আমিন ইসলাম

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর

জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে । দলীয় মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি রাজনৈতিক দলগুলোর । কারণ, চলছে অবাধ মনোনয়ন বাণিজ্য। এক আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী । দেশের সুনাগরিক হিসাবে প্রত্যাশা করি, একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নির্বাচন নিয়ে কানামাছি খেলার অবসান ঘটবে । কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়নও নিশ্চিত হবে।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ , সিলেট

আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ- এমনটা আশা করেন দেশের সাধারণ  জনগণ। যদিও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের কয়টি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নজির রয়েছে, তা আমরা সবাই কম-বেশি জানি। তাই নির্বাচন নিয়ে ভয়; কী জানি কী হয়। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রকৃতই ভয় কাজ করছে সবার মাঝে। নির্বাচনের আগে দেশের পরিবেশটা কেমন যেন ভারী হয়ে আছে। সে ভয় উতরে অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন হোক, এটা সবার প্রত্যাশা। আমরা চাই না, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার কানামাছি খেলা হোক। নির্বাচনী রক্তপাত বহু দেখেছি। রাজনৈতিক দলগুলোকে আগুন নিয়ে খেলা করতে দেখেছি। মানুষের পোড়া লাশ দেখেছি। জ্বালাও-পোড়াও কোনটা দেখিনি? আমরা চাই না, এ নির্বাচনে কোনোরকম রক্তপাত হোক অথবা প্রাণহানি ঘটুক।

অমিত বণিক

উত্তরা,ঢাকা

বিভিন্ন কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আপিলে কারও কারও মনোনয়ন বৈধ বলেও ঘোষিত হচ্ছে। মূলত নির্বাচন কমিশনারের উচিত  নিরপেক্ষভাবে কাজ করা।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর

প্রতিটি রাজনৈতিক জোটে এবার দলের সংখ্যা বেড়েছে। সেজন্য দেখা যাচ্ছে, একটি আসনে জোটের একাধিক দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তি। বিরোধী জোট অর্থাত্ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে একাধিক প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। তারা ঠিক কাকে মনোনয়ন দিবে তা ঠিক করতে পারছে না। যারা মনোনয়ন পাবে না তারা দল বদল করতেও পারে। এটাই বাস্তবতা।

 মো. মিজানুর রহমান

পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম

বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সংসদ না ভেঙে এবং ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীদের বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নানা সংশয় বিরোধী শিবিরে বিরাজমান। তার উপর আছে  সাইবার কারচুপি, সূক্ষ্ম কারচুপি, স্থূল কারচুপি, মিডিয়া ক্যু, প্রশাসনিক ক্যু, গুণ্ডা-পাণ্ডার দৌরাত্ম্যসহ নানাবিধ  উপসর্গ। এইগুলোকে পাশ কাটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন বা আদৌ কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে বড় বড় নেতারা নিজেদের আশঙ্কার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন। তবে আমরা নিরীহ জনগণ চাই, সংবিধান সমুন্নত রেখে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কবিহীন নির্বাচন।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর(আরমান ভূঁইয়ার বাড়ী), বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

সবকিছু নিয়মের মধ্য থেকেই হচ্ছে এবং দেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  তবে এজন্য অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

কোন কানামাছি খেলা নয়। সাধারণ মানুষের ভোট দেবার পরিবেশ তৈরি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আমরা কোনো সহিংসতা চাই না।

মো. রবিউল হোসেন রবি

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিবেশ সংস্থা, ঢাকা

বলা হচ্ছে, কানামাছি খেলা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। কোনো শঙ্কা থাকার কথা নয়। নির্বাচন হওয়ার আগেই নেতিবাচক মন্তব্য করা ঠিক নয়।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

আসন্ন সংসদ নির্বাচন যেন সবদিকে থেকে গ্রহণযোগ্য করতে পারে সেজন্য সকলকেই ধৈর্য্য ও সংযম প্রদর্শন করতে  হবে। তাছাড়া সামান্য ভুলভ্রান্তির অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিল করা ঠিক হবে না।

আলাহাজ শেখ হাফিজুল ইসলাম চৌ.

হাউজিং ষ্টেট, রাজশাহী

সরকারি দল নির্বাচনের মাঠে আছে। সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সবাই এলাকা ছাড়া। এমন পরিস্থিতি বজায় থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিভাবে?

আব্দুস সাত্তার

বেলগাছি, রাজবাড়ি

গণতন্ত্রের জন্য ও সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছে। সুতরাং আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে সবার সহযোগিতা কাম্য।

এস.কে মো: রমিজউদ্দিন

পুরানা পল্টন, ঢাকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আশা করি,তারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন।

মো. আমজাদ হোসেন আলতাফ

বেগুন টাল, পশ্চিম টাঙ্গাইল

বিভিন্ন দল বিভিন্ন অজুহাতের কারণে মনোনয়ন এখনও চূড়ান্ত হতে পারেনি। শুনা যাচ্ছে ডিসেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। প্রচার-প্রচারণা তথা জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার সে সুযোগ বা সময় খুব কম। এত অল্প সময়ে প্রার্থীর দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠবে।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

এবার ভোটের অধিকার আদায়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর যথাযথভাবে মর্যাদা দিতে হবে আমাদেরকে।

মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম

পূর্ব শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মানুষের মনে শঙ্কা শুরু হয়েছে। এর একটি কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন পর অথবা বলা যায়, এই প্রথম আমাদের দেশে সব দল একসাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সুতরাং এর যেন ব্যত্যয় না হয়, সকলে যেন শেষপর্যন্ত নির্বাচনে থাকে। 

আল-মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক উত্সবের আমেজ ছিল। এটা সত্যি বিস্ময়কর ও আনন্দের বিষয়। সুতরাং নির্বাচন যথাসময়েই হবে বলে আমরা মনে করছি। তবে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বিষয়টির দিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

মো. সাহিদুল ইসলাম

সভাপতি, বাংলাদেশ কবি পরিষদ, মতিঝিল, ঢাকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা যে হলফনামা দিয়েছেন তা নতুন কিছু নয়। এটাকে অন্য কিছু ভাবা যায় না। সাধারণ মানুষ চায় সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

মো: আরিফুর রহমান

দেলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আপিলের হিড়িক পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। সব রকম নিয়মতান্ত্রিকের মধ্যে থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়। এটা  অন্য কোনো অজুহাত নয়।  তবে সবদিক থেকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি এ সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সালমা আফরোজ

ফার্মগেট. ঢাকা

নির্বাচন নিয়ে লুকোচুরি হচ্ছে বলা ঠিক নয়। কারণ হচ্ছে, এবার সবদল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এতে করে বোঝা যায়, দুই জোট কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে, যেহেতু নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হয় তাহলে দুই জোটের মধ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলে আশা করা যায়। সেক্ষেত্রে এখনই কোনো জোট চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করতে চাচ্ছেন না। আগামী ৯ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে। তখন নির্বাচনের আসল চেহারা ফুটে ওঠবে। যেহেতু কোনো জোট যদি একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন, তাহলে অন্য জোট আগের ঘোষিত প্রার্থী দেখে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেন। সেজন্যই দুই জোট কৌশলী ভূমিকা পালন করছেন।

মো. রুহুল কুদ্দুস

সহকারী অধ্যাপক, আবুজর গিফারী কলেজ, ঢাকা

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যথাসময়েই সব জোটের বা দলের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ পাবে এবং ৩০শে ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সম্মানিত ভোটারগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

মোঃ সামসুল হক

অবসরপ্রাপ্ত:প্রকৌশলী,

গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা