নারায়ণগঞ্জে এক ঘণ্টায় ৪ ছিনতাই, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একই রাতে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চারটি ঘটনার সময়, স্থান ও কৌশলে মিল থাকায় একই সংঘবদ্ধ চক্র এসব ছিনতাই করেছে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর সোয়া ৪টা থেকে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিনজন ভুক্তভোগী বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপর ভুক্তভোগী সোহাগ ঘটনার পর নিজ জেলা সাতক্ষীরায় চলে যাওয়ায় অভিযোগ করতে পারেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোর সোয়া ৪টার দিকে পশ্চিম হাজীপুর এলাকায়। সৌদি আরবগামী প্রবাসী রকিবুল হাসান তারেক গাড়িতে মালামাল তোলার সময় তিন দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট, ট্রাভেল ব্যাগ, ৯০০ সৌদি রিয়াল, নগদ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, ঘটনার সময় হাজীপুর মোড়ে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলের পাশে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এর প্রায় ১৫ মিনিট পর, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাতক্ষীরাগামী সোহাগ রিকশাযোগে বন্দর খেয়াঘাটে যাওয়ার পথে সিএইচডি গেট এলাকায় পিস্তলধারী তিন ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। দুর্বৃত্তরা তার মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

এরপর ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে কদমরসুল কলেজের পেছনে ট্রাকচালক মো. হাসান খানের পথরোধ করে তাকে মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় তিন দুর্বৃত্ত। ঘটনাস্থল থেকে তারাও মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

সবশেষে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কাজে যাওয়ার পথে মো. হাসান নামে আরেক ব্যক্তিকে পিস্তল ও ছুরির মুখে জিম্মি করে নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা, একটি স্মার্টফোন ও একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয় তিন ছিনতাইকারী।

চারটি ঘটনার সময়, স্থান, ছিনতাইয়ের ধরন এবং কালো রঙের মোটরসাইকেল ব্যবহারের তথ্যের মিল থাকায় ভুক্তভোগীদের ধারণা, একই সংঘবদ্ধ চক্র ধারাবাহিকভাবে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মুন্সিগঞ্জ অথবা চরসৈয়দপুর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে এসে আকস্মিকভাবে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা ইতোমধ্যে তাদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছি। কয়েকজনের নামও পেয়েছি এবং তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্ত করা যায়নি। তবে ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি