ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় আসাম ও কেরালায় ১০০ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৫

ভারতের চলতি বর্ষা মৌসুমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি আর আকস্মিক বন্যায় কয়েকটি রাজ্যে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আসামে এখন পর্যন্ত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে কেরালায় বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে পৌঁছেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন জানিয়েছেন, এখনো সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাজ্যজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ জোরদার করা হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও এখনো অব্যাহত আছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) রাজ্যের ১০ জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা কমলা সংকেতে উন্নীত করেছে।

রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি সোমবার সকালেও কোচিতে চলছিল। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৩১৬টি ত্রাণশিবির চালু রয়েছে। সেখানে বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ হাজার ১৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

ভারী বর্ষণের কারণে কেরালাজুড়ে অধিকাংশ স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত করেছে সরকার। সোমবার আইএমডি কেরালার বৃষ্টির সতর্কতা হলুদ থেকে কমলায় উন্নীত করে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে। তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, ত্রিশূর ও পালাক্কাড জেলা ছাড়া বাকি সব জেলাকে কমলা সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারও কিছু এলাকায় তীব্র বাতাসের সঙ্গে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অন্যদিকে আসামের বন্যা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে বলে দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাজ্যের পাঁচ জেলায় বন্যার কারণে এখন ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আগের দুই লাখের হিসাবের তুলনায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে রোববার শিবসাগর জেলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে বৃষ্টিপাত ও বন্যায় আসামে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এবিএস