ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩০

পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের নবগঠিত ইউনিয়ন কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বছরের জন্য রণগোপালদী ইউনিয়নের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে এদিন বিকেলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে গেলে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মুছা মাঝির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের আহত হন অন্তত ১০ জন।

জানা যায়, আহতদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা কমিটি তাকে সভাপতি করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই একটি গ্রুপ বিরোধ শুরু করে। আমরা সোমবার অফিসে গেলে মুছা মাঝি ও তার সমর্থকরা আমাদের প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমি মাথায় গুরুতর আঘাত পাই।’

বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদার বলেন, ‘মুছা মাঝি নতুন কমিটি মেনে নিতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন সাবেক আহ্বায়ক মুছা মাঝি। তিনি বলেন, আমরা কার্যালয়ে বসে আলোচনা করছিলাম। এ সময় মাইদুল ইসলাম ও মামুন তালুকদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ হোসেন আকন ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। 

এসময় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

ইত্তেফাক/এনটিএম