৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪১

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ছয় নেতা। মঙ্গলবার রাতে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের কড়া পাহারায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তাদের ওপর আবারও হামলা চালান রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) এবং মঞ্চ-২৪-এর নেতা-কর্মীরা।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতারা হলেন—দলের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার। রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাদের জরুরি বিভাগ থেকে বের করে গাড়িতে তোলার সময় নেতা-কর্মীদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

রমনা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন ছয়জনকে আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহতরা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে সেখানে আবারও সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হয়। প্রথমে দেড় ঘণ্টা সেবা বন্ধ থাকার পর তা চালু হলেও ফের হামলার কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয় এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আহত শান্তা ফারজানা অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমরা প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মশাল ও প্রতিবাদ মিছিল করছিলাম। হঠাৎ আয়াশের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়। এতে আমাদের চেয়ারম্যানসহ ছয়জন রক্তাক্ত হই। ঢামেকে চিকিৎসা নিতে এলে তারা ২০-২৫ জন মিলে আবারও হামলা চালায়। তারা আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেছে এবং আমরা জরুরি বিভাগে আটকা পড়ে চিকিৎসা নিতে পারছিলাম না।’

অন্যদিকে, আহত রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াশ অভিযোগ করেন, ‘শান্তা ফারজানা ও তার সহযোগীরা জুলাই শহীদ আবু সাঈদকে ‘জঙ্গি’ বলেছেন এবং ধর্ম অবমাননা করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে শান্তা ও মোমিন মেহেদীসহ ৩০-৪০ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়। ঢামেকে আসার পরও তারা হামলার চেষ্টা করেছে।’

মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটূক্তি এবং ধর্ম অবমাননাকারীদের নতুন বাংলাদেশে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনকে সহায়তা করতে এখানে অবস্থান নিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এনএন