শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পেছনে সরকারের উচ্চমহলের মদদ দেখছে ছাত্রশিবির

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫৮

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের উসকানি ও মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবেই হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক ও সহনশীল পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুনির্দিষ্টভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবির সভাপতি কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয় সরকারের বহন করা, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক পরিবেশ দ্রুত নিরাপদ করা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।

নূরুল ইসলাম হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা হামলাকারীদের জন্যই শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে পতিত স্বৈরাচার আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাদের সেই করুণ পরিণতি থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

ইত্তেফাক/এনএন