জুলাই গণঅভ্যুত্থান

শেখ হাসিনার বিদায় ও নতুন সরকার গঠন নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানান, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই সরকারের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। 

সেদিন সেনাসদরে বিকেল চারটার দিকে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'আমরা আজকে সুন্দর ভাবে কথা বলেছি। প্রধান প্রধান দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আমরা সুন্দর আলোচনা করেছি। এই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছি। সুন্দর একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এখন একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবো।'

তিনি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবো এবং এই সরকারের মাধ্যমে এ দেশের সব কার্যকলাপ চলবে। আমরা এখন রাষ্ট্রপতির কাছে যাবো। ওনার সাথে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করবো।'

ব্রিফিংয়ে সেনাপ্রধান দেশের চলমান সহিংসতায় নিহতদের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং জনগণকে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, 'আমি সব দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনাদের জানমাল এবং আমি কথা দিচ্ছি আশাহত হবেন না। আপনাদের যত দাবি আছে সেগুলো পূরণ করবো এবং দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। আপনারা আমার সাথে সহযোগিতা করেন।'

সেনাপ্রধান জানান, ব্রিফিংয়ের আগে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জামায়াতের আমির, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা, জুনায়েদ সাকী এবং ড. আসিফ নজরুল উপস্থিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না।

দেশে ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'দয়া করে আমাকে সহায়তা করুন। মারামারি করে, সংঘাতের মাধ্যমে আর কিছু পাবো না। সুতরাং দয়া করে সব ধ্বংসযজ্ঞ, অরাজকতা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত হন। ইনশাল্লাহ সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হবো। আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন, আমাদের কিছু সময় দিন। আমরা সবাই মিলে সব সমস্যা সমাধানে সক্ষম হবো।'

তিনি আরও বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সহিংসতায় দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, 'এগুলো থেকে বিরত হোন এবং আমাদের সহযোগিতা করেন। আমি সব দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন।'

অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। আমরা যাবো রাষ্ট্রপতির সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে করবো।'

তিনি আরও জানান, তার অনুরোধে ড. আসিফ নজরুল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আশা করি ওনার এ বার্তা শুনে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসবে এবং আমরা সুন্দর পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাবো।'

সবশেষে সেনাপ্রধান বলেন, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেনাবাহিনী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, 'আপনাদের সবার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে সাহায্য করা। আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা তাহলে সহজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজেই নিয়ে আসতে পারবো।'

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ইত্তেফাক/এসজে