শ্বশুর-চাচা শ্বশুরের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল জামাইয়ের, স্ত্রীসহ আহত পাঁচজন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬

বরগুনায় শ্বশুর-চাচা শ্বশুরের দ্বন্দ্বে মো. ফোরকান (৩০) নামে জামাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় ফোরকানের স্ত্রী জান্নাতিসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, আহতরা বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত ফোরকান বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বেতবুনিয়া এলাকার শানু হাওলাদারের ছেলে। 

এ তথ্য নিশ্চিত করে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়াঝাটি এবং মারামারি ঘটনা ঘটতো। গত দুই দিন আগেও তাদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে  এবং থানায় একটি মামলাও হয়েছে। আজ সকালে আবারও তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে ফোরকান নামের একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। 

তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি বলে জানান ওসি। 

ফোরকানের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় পাঁচ মাস আগে পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম মোল্লার একটি ছাগল অন্য ভাইয়ের জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাই জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লার সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ ঘটনায় তাদের নিজেদের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া উভয় পক্ষই বিভিন্ন অভিযোগে থানায় একাধিক মামলাও দায়ের করেন।

সবশেষ গত তিন দিন আগে আবারও ওই দুই ভাইয়ের পারিবারের সদস্যদের হামলার শিকার হয়ে আহত অবস্থায় শহিদুল ইসলাম মোল্লা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে মেয়ের জামাই ফোরকান আহত শ্বশুরকে হাসপাতালে দেখে শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে আজ সকালে ফোরকান ও তার স্ত্রীসহ ওই পরিবারের কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন চাচা শ্বশুর জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লাসহ তাদের স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক ফোরকানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ফোরকানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা প্রেরণ করলে, যাওয়ার পথেই রাতে ফোরকানের মৃত্যু হয়।  

 

 
ইত্তেফাক/এনটিএম