কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক দাবি করেছেন, আহসান হাবিব ‘জুলাই যোদ্ধা’ নন এবং তার নাম সরকারি গেজেট থেকে বাদ দেওয়া উচিত। তার দাবি, জুলাই আন্দোলনে আহসান হাবিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার পরিবার আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়েছিল।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর চকরিয়া–পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একজন শহীদের ব্যাপারে অযাচিত মন্তব্য আমাদের আহত করে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আহসান হাবিবকে নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। এনামুল হক বলেন, ‘কে জুলাই যোদ্ধা? আমি–আপনি সেই জুলাই যোদ্ধা। যারা জুলাই যুদ্ধ করতে গিয়ে বুকের রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, হাসিনাকে বিমানে তুলে দিয়েছেন, তারাই যোদ্ধা।’
এ সময় আহসান হাবিবের প্রসঙ্গ টেনে এনামুল হক অভিযোগ করেন, তার নাম জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনকারীদের বিরোধিতা করেছিলেন। এ কারণে সরকারের কাছে তার নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এনামুল হক আরও বলেন, আহসান হাবিব নিহত হওয়ার পর তৎকালীন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হেলালের নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্যরা গণভবনে যান। সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয় এবং পরিবারকে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিবাদ জানান জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি আহসান হাবিবের জুলাই আন্দোলন চলাকালে দেওয়া কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন।
আবদুল্লাহ আল ফারুক লিখেছেন, ‘আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজারের রাজপথে নিহত শহীদ। জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে নিয়মিত পোস্ট করেছে। সারজিস আলমও একসময় ছাত্রলীগ করতেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন শহীদের ব্যাপারে অযাচিত মন্তব্য আমাদের আহত করে।’
তিনি বলেন, ‘আহসান হাবিব, ওয়াসিম আকরাম আমাদের প্রেরণা, চকরিয়া–পেকুয়ার গর্বের ধন।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কক্সবাজার শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আহসান হাবিব। তার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে তার পরিবারের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন। পরে ২০২৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আহসান হাবিবের কবর জিয়ারত করেন।

