ইয়েমেনের সামরিক ঘাঁটিতে হুতি হামলায় নিহত ৩০

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৯

ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশের সরকারি সামরিক শিবিরে হুথি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন যে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাদরামাউত ও মারিবের সীমান্ত রক্ষায় থাকা সৌদি সমর্থিত হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস এবং ফার্স্ট মিলিটারি রিজিয়নের প্রশিক্ষণরত সেনাদের ওপর এই আঘাত হানা হয়।

হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী একে তাদের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা জানায় যে মারিবের উত্তরে আল-জাওফ প্রদেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয় এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন দূতাবাস এই আক্রমণকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন নাজরান শহরে হুথিদের ছোঁড়া প্রক্ষেপকের আঘাতে নারী ও শিশুসহ ১১ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যদিও হুথিরা সঙ্গে সঙ্গেই এই দায় স্বীকার করেনি।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছেন এবং সেনাদের সৌদি শিবির ছেড়ে ঘরে ফেরার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইয়েমেনের পরামর্শ ও পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতি আবদুল মালিক আল-মেখলাফি এক্স-এ এক বার্তায় বলেন যে চাপে পড়ে হুথিরা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে এই পথ বেছে নিয়েছে।

সম্প্রতি সানা বিমানবন্দরে ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এর জবাবে হুথিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ও লোহিত সাগরে জাহাজ আক্রমণের ঘোষণা দেয়। এতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার মধ্যে লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথও মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ