ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরানের একটি গোপন স্থানে অন্ধকার ও কালো গ্লাস ঘেরা গাড়ির ভেতরে দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে পরে তিনি যার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি আসলেই সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বারবার অনুরোধ ও পদত্যাগের হুমকির পর গত মে মাসে পেজেশকিয়ানকে মাত্র কয়েক মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে প্রথা ভেঙে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনের বদলে একটি কমার্শিয়াল গাড়ির ভেতরে অন্ধকার পরিবেশে তাদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রহরীরা করমর্দন পর্যন্ত করতে দেয়নি। সাক্ষাতটি অপমানজনক মনে হওয়ায় পেজেশকিয়ান পরে দ্বিতীয়বার তার বাসভবনে বৈঠকের আর্জি জানালেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
সাক্ষাৎ নিয়ে সংশয় থাকলেও পরবর্তীতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের কাছে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, তিনি আড়াই ঘণ্টা ধরে এক আন্তরিক পরিবেশে মোজতবার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন যে বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হলেও তার উপস্থিতি সরকারের জন্য এক বড় শক্তিস্বরূপ।
ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ১৪ জানায়, নীতিগত দ্বন্দ্বে পেজেশকিয়ান পদত্যাগের আবেদন জানালে মোজতবা খামেনি তাকে ‘চূড়ান্ত আল্টিমেটাম’ দেন এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করে দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেন, তবে গত পাঁচ মাস ধরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছেন যে তিনি এই সময়ে মোজতবাকে দেখেননি। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মোজতবা খামেনি '৯০ শতাংশ শেষ' হয়ে গেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি

